ঢাকা: আগামী প্রজন্মের স্বার্থ এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। এটি কোনো স্বল্পমেয়াদি উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংবিধান সংশোধন এক বা দুই বছরের জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য করা হবে যাতে সাধারণ জনগণ এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল ভোগ করতে পারে। সে কারণে সময়ের আকাঙ্ক্ষা, পরিবর্তনের ধারা এবং জনগণের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই সংবিধানে পরিবর্তন আনা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, সংবিধান মূলত একটি চলমান ও সময়োপযোগী দলিল। তাই সময়ের পরিবর্তন, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে। একই সাথে এই পুরো প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের গঠনমূলক অংশগ্রহণের ওপর তিনি বলেন।
বর্তমান সংসদের বিশেষ করে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গভীরভাবে অনুধাবন করে কার্যকর অবদান রাখতে তাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে। সরকারের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে এবং বিরোধী দলের সদস্যরা যখনই আসবেন, তখনই তাদের এই বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হবে।
আর্ন্তজাতীয় উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতে বহুবার এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সফলভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। সে কারণে দেশের বাস্তব প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সংবিধান সংশোধনের বিকল্প কিছু নেই।
সংবিধানের প্রতিটি সংশোধন ও সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকার দেশের সকল রাজনৈতিক দলের মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে বিরোধী দলের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিক থাকবে। বিরোধী দল থেকে যখনই মতামত প্রদান করা হবে, ঠিক তখনই তাদের সেই মতামত গ্রহণ করে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।