ঢাকা: ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক মর্যাদা, শ্রদ্ধা, গভীর বোঝাপড়া এবং উভয় দেশের জনগণের সার্বিক কল্যাণের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে আগ্রহী বলে ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম। বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজের জাতীয় স্বার্থকে সর্বাদলীয় অগ্রাধিকার প্রদান করেই যেকোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রীয় শক্তির সাথে সম্পর্ক এগিয়ে নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাথে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
সীমান্ত ও ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌম এক খণ্ড মাটিও যেভাবে অন্য দেশের বিরুদ্ধে অপব্যবহার হতে দেওয়া হবে না, একইভাবে প্রতিবেশী দেশের সীমানাও যেন বাংলাদেশের ক্ষতিতে ব্যবহৃত না হয় সেটিই বাংলাদেশের মূল প্রত্যাশা। ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক নেতাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর ধরে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, নির্যাতন ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে কোনো প্রকার আস্রয় না দেওয়ার জন্য একটি গণতান্ত্রিক পরাশক্তি হিসেবে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন এবং নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ভাটির ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশ অভিন্ন নদীর মারাত্মক পানি সংকটে ভুগছে এবং মানবতার খাতিরে ভারতের এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করা উচিত। সীমান্তে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং তা সম্পূর্ণরূপে বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক আলোচনা ও সুবিধাজনক সময়ের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
সংসদীয় ব্যবস্থা ও বিল সম্পর্কিত আলোচনায় মতামত প্রদান করতে গিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখতে ও আইন প্রণয়নের স্বচ্ছতা আনতে রাজপথের সংঘাতের বদলে জাতীয় সংসদকেই প্রধান চর্চাকেন্দ্র করা আবশ্যক। তিনি আরও বলেন, উত্থাপিত বিভিন্ন বিলে বিরোধীদের সংশোধনী ও মতামত প্রকাশের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ে দুই দেশের সংসদীয় মৈত্রী দল গঠনে কোনো বাধা নেই।