Wednesday 05 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দণ্ডিত হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষোভ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৫৯

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধে আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ক্ষোভ জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর এ ধরনের অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল ঢাকা। এরপরও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশের মানুষ যখন জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, ঠিক সেই সময়ে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহিদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের দ্বারা প্রমাণিত তথ্য ও অনুসন্ধানকে অস্বীকার করা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষ, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয় অস্বীকার করা পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার সহযোগীদের ইতিহাস পাল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা অব্যাহত রেখেছে।

এতে আরও বলা হয়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ যে, দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার যুগে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনো কোনো ‘অনুগত রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে না। দণ্ডিত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া চক্র’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান থাকবে না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এ সম্পর্ক সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সই হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডিত অপরাধী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা বারবার ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে, যেকোনো অজুহাতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর