ঢাকা: নৌপরিবহন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও তথ্যনির্ভর করে গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতায় নৌপরিবহন অধিদফতর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যৌথভাবে দেশব্যাপী এই তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
মূলত ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের অধীনে আয়োজিত এই কার্যক্রমটি আগামী ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে পরিচালিত হবে।
এই শুমারির মূল উদ্দেশ্য দেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় এবং অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী সব ধরনের ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরণ, মালিকানা এবং নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ করা। সংগৃহীত হালনাগাদ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হবে, যা দেশের নৌপথ নিরাপত্তা বৃদ্ধি, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। নির্ভরযোগ্য এই তথ্যভাণ্ডার নৌপরিবহন খাতের টেকসই নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশজুড়ে শুরু হতে যাওয়া এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব নৌযান মালিক, চালক ও শ্রমিকসহ মাঠপর্যায়ের অংশীজনদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। শুমারি কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্যসংগ্রহকারীদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রদান করে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সমন্বিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে নৌযান ব্যবস্থার কার্যকর ডিজিটালাইজেশন ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।