ঢাকা: দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনা রুখতে এবং কেউ যেন স্বৈরাচারী হয়ে না ওঠে, সে জন্য দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা (রোডম্যাপ) তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইনস্টিটিউট অব হযরত মোহাম্মদ (সা.) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অন্যায় দেখেও যারা অন্ধের ভান করছেন, তাদের অবিলম্বে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।’
এ সময় জুলাই আন্দোলনের ভয়াবহতার কথা স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে অত্যন্ত নৃশংসভাবে প্রায় ১,৪০০ মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অঙ্গহানি ঘটেছে অনেকের, অথচ আজও চোখে আলো থাকা সত্ত্বেও অনেকে তা দেখতে পাচ্ছেন না বা অস্বীকার করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধানে বর্ণিত ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং সরকারকে সঠিক পথ দেখানো প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।’
মো. আসাদুজ্জামান জানান, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের স্বাবলম্বী করা একটি মহৎ কাজ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে এই কার্যক্রমে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, জননী ও জন্মভূমির চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভুলত্রুটি সংশোধন করে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
এ বছর প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা’। সারা দেশ থেকে আসা বিজয়ীদের হাতে অনুষ্ঠানে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ফয়েজ আহমেদ, ইনস্টিটিউটের সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম নুরউদ্দিন খান, ইরান দূতাবাসের প্রথম কাউন্সেলর এসরাফিল আমিরি গোর্জাদ্দিনি, ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান এরশাদ ফয়েজ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক।