ঢাকা: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটিতে শিক্ষাকে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (২৫ আগস্ট) চীনে অনুষ্ঠিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড। তবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় তত্ত্বনির্ভর থাকায় শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মজগৎ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও প্রায়োগিক রূপ দিতে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যেই সবার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় তরুণদের এগিয়ে নিতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মান্দারিন বা চীনা ভাষাকে এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কর্মবাজারের সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে শিল্প-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহযোগিতা বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের চাকরির পথ সুগম করতে আধুনিক কর্মসংস্থান বিনিময় ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা ও বৈশ্বিক সাফল্যের প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘চীনের উন্নত গবেষণা সংস্কৃতি ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে দিতে চায় সরকার। বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চীনের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি চীনের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বৃত্তি বহুগুণে বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক গবেষণাগার ও আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে যৌথ গবেষণা প্রকল্প নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় আরও বাড়াতে হবে।’ চীনা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিনিময় কর্মসূচি ও সামার স্কুলের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসার সুযোগ তৈরি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে এসে সম্ভাবনা যাচাই এবং দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোর সঙ্গে যৌথ একাডেমিক ডিগ্রি ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
অনুষ্ঠানে ‘চায়না-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড এডুকেশন ইন্টিগ্রেশন ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস সেন্টার’-এর যাত্রা শুরুর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এর সাফল্য কামনা করেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মেধা ও গবেষণার মেলবন্ধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
এ সময় অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য চীনা দূতাবাস ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান তিনি।