Tuesday 01 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারতের কোনো মন্তব্য নেই: দীনেশ ত্রিবেদী

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩৫

ঢাকা: বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে ভারত কোনো মন্তব্য করতে চায় না বলে জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দেশের মানুষ ও নির্বাচিত সরকারই দেশের জন্য কী ভালো, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া অতীতের বিষয়ে আটকে না থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি একজন রাষ্ট্রদূত। অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আমরা কিছু বলতে চাই না। আমাদের বলা উচিতও নয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, নির্বাচিত সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ভালো বুঝবে মানুষের জন্য কী ভালো, সেটাই আসল কথা।

দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ‘পিপল টু পিপল’ সম্পর্ক। দুই দেশের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করা দুই দেশেরই দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় বলি, আমরা একটি স্বপ্ন শেয়ার করি, সীমান্ত শেয়ার করি। তাই প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।

দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘উই আর ইকুয়াল, নোবডি বিগ, নোবডি স্মল’ বাংলাদেশ ও ভারত সমান অংশীদার। দুই দেশেরই নিজেদের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেসব চ্যালেঞ্জকে বিবেচনায় নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়া যায় না, কিন্তু অতীতে আটকে থাকারও কোনো সুযোগ নেই। অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, মানুষের স্বার্থে কীভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরও বেশি মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানান ভারতের হাইকমিশনার। তিনি বলেন, মন্ত্রী একজন ‘স্টেটসম্যান’ এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে।

সাক্ষাৎ শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিনি মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানকে ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার নিজেও রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁর দেশের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। একইভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও তাঁকে জানানো হয়েছে।

সারাবাংলা/একে/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর