Friday 04 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দেশে সারের সংকট নেই, মজুত ১৩ লাখ টন: কৃষিমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:৫৯ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৪

সংসদে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন

ঢাকা: দেশে বর্তমানে সারের কোনো ঘাটতি বা সংকট নেই এবং সরকারি গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার নিরাপদ মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সারের সরবরাহ ব্যবস্থায় কৃত্রিম বাধা তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী সারের মজুত তদারকিতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

সংসদে সারের সঠিক পরিসংখ্যান ও সার্বিক উপাত্ত তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে স্পষ্টভাবে বলছি, যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি, সত্য বলিতেছি এবং সত্য বলিতেছি। বর্তমানে দেশে ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার সরাসরি মজুত রয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের ১২ লাখ টনের চেয়েও বেশি। এর পাশাপাশি আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন সার বর্তমানে আন্তর্জাতিক পাইপলাইনে তথা সমুদ্রবন্দর ও জাহাজে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে।’

দেশে বছরে সারের মোট চাহিদা ৪০ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টন উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে সার্বিক বিচারে সারের কোনো সংকট নেই।

অসাধু সিন্ডিকেটের কারসাজি ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতি ইউনিয়নে একজন বিএডিসির, একজন বিসিআইসির এবং নতুন একজনসহ মোট ৩ জন করে মাস্টার ডিলার নিয়োগ দিয়ে একটি কৃষকবান্ধব নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাইস মিলে অবৈধভাবে জমিয়ে রাখা সার উদ্ধারসহ দোষীদের গ্রেফতার, জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলের আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

দেশীয় উৎপাদন ও বৈশ্বিক আমদানি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ সার স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। কিন্তু তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের ৭টি সার কারখানার মধ্যে ৬টিই বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে চাহিদার বড় অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাতার থেকে সার আমদানিতে কিছু সাময়িক বাধা সৃষ্টি হলেও বিকল্প হিসেবে কানাডা ও মরক্কো থেকে দ্রুত সার আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিকল্প বন্দর ব্যবহার করে চুক্তি অনুযায়ী নিয়মিত সার সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব।’

আলোচনার একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কলমাকান্দা-দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ভুয়া ও মৃত ব্যক্তিদের নামে থাকা পুরোনো ডিলারশিপ এবং আঞ্চলিক বিতরণ বৈষম্য নিয়ে মন্ত্রীর জবাব দাবি করেন। জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, মাঠ পর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট রুখতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিরোধীদলের সদস্যের রংপুর অঞ্চলের সার সংকটের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে তিনি গত অর্থবছরের আগস্টে দেওয়া ১০ হাজার ৫৯০ টনের বিপরীতে চলতি অর্থবছরে সরবরাহ বাড়িয়ে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন করার তুলনামূলক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।

কৃষি খাতে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি জাতীয় সংসদে কৃষক ও দেশের সর্বস্তরের জনগণকে যেকোনো গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।

সারাবাংলা/এফএন/এমএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর