Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় ক্ষমা চাইলেন মঞ্জু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৬ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

ঢাকা: জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ব্যর্থতা হিসেবে স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেছেন, একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন এবং বড় জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনেকেই কষ্ট পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এবি পার্টি জনমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। নির্বাচনি রাজনীতির বাস্তবতা এবং চাপের মুখে তাদের একটি বড় রাজনৈতিক জোটে যোগ দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে অনেক মানুষ কষ্ট পেয়েছেন, হতাশ হয়েছেন। সেই কারণেই তিনি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা চাইছেন।

বিজ্ঞাপন

এ সময় তিনি সরাসরি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে জানতে চান, তারা তার ক্ষমা গ্রহণ করেছেন কি না। জবাবে সমস্বরে ‘না’ ধ্বনি ওঠে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মঞ্জু বলেন, কেউ ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করা উচিত। কিন্তু সমাজে এখন ক্ষমা না করার একটি নেতিবাচক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনি বাস্তবতা ছোট দলগুলোর জন্য অত্যন্ত কঠিন। বড় দলের সঙ্গে জোট না করলে ছোট দলগুলোর টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে। ভোটের মাঠে সংগঠন, জনবল এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবুও তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের দায় তারা অন্যের ওপর চাপাতে চান না। জামায়াতের জোটে যোগ দেওয়ার দায় অন্তত ৬০ শতাংশ তারা নিজেরাই নিচ্ছেন এবং সাধারণ জনগণকে কোনোভাবেই দোষারোপ করবেন না।

অনুষ্ঠানে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, কেন এবি পার্টি নতুন কোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা বিকল্প শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। জবাবে মঞ্জু বলেন, একটি ছোট দল হিসেবে তাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া থেকে শুরু করে পুরো নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা এককভাবে পরিচালনা করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমান, বিদ্রূপ এবং কটূক্তির শিকার হচ্ছেন। মানুষ ঠাট্টা করে প্রশ্ন তোলে—সবাই মিলে কি ১০০ ভোটও পাবে? তারা আদৌ রাজনীতি করার বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য কি না, এমন প্রশ্নও তোলা হয়। এসব বিষয় দলের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া তাসনিম জারার প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, সবার ক্ষেত্রে এমন সুযোগ থাকে না। তাসনিম জারার একটি আলাদা সামাজিক ও পেশাগত পটভূমি আছে এবং তার শক্তিশালী মিডিয়া সমর্থন রয়েছে। এরপরও তিনি এক শতাংশ সমর্থন নিশ্চিত করতে পারেননি। যাদের এসব সুবিধা নেই, তারা চাইলেও দল ছেড়ে একা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এবি পার্টি অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়। এর আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই জোটে যোগ দেয়। এসব দল যুক্ত হওয়ার ফলে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১টিতে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর