Saturday 25 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে মেয়াদ পূরণ করতে পারবে না সরকার’

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
২৫ জুলাই ২০২৬ ১৮:৪৩ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫১

এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

সিলেট: গণভোটের গণরায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার না করলে বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (২৫ জুলাই) গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান ১১ দলীয় জোটের সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

সরকারের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে, আগামী পাঁচ বছরের মেয়াদ তারা সম্পূর্ণ করে যেতে পারবে না।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তিনি কি পাঁচ বছর নির্বাচিতভাবে ক্ষমতায় থাকতে চান, নাকি শেখ হাসিনাসহ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গায় জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার যে করুণ পরিণতি হচ্ছে, সেই পরিণতি তিনি ভোগ করতে চান সিদ্ধান্ত তারেক রহমানকেই নিতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে ভারতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে একজন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই আন্দোলনকে সাধুবাদ জানান। তবে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের সরকার যেখানে ছাত্র-জনতার প্রতি সতর্ক ও শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের সরকার তার উল্টো পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, ‘গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায়কে অবজ্ঞা করছে।’

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নিজ দলের অভ্যন্তরে কোনো সংস্কার আনেনি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ন্যূনতম ঐকমত্য মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘যদি সে জুলাই বিপ্লবকে ভুলে যায়, যদি সে ছাত্র-তরুণদের আন্দোলনকে ভুলে যায়, যদি এ দেশের হাজারো মানুষের আত্মত্যাগকে ভুলে যায়, তাহলে তার পরিণতি বিএনপি ও তারেক রহমানের সরকারকেই ভোগ করতে হবে।’

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে সংস্কার বনাম সংশোধন বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন সম্ভব নয়, এ জন্য সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সংস্কারের প্রশ্ন ভুলে শুধু সংশোধনের কথা বলছে। বিএনপি ৩১ দফার মুলা ঝুলিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

ঢাকায় গ্যাস সংকট এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সাম্প্রতিক বাজেটের মাধ্যমে মধ্যবিত্তের ওপর করের বোঝা চাপানো হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, সরকার সংস্কার না করায় অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন অথবা বর্তমান কমিশনারদের পদত্যাগের দাবি জানান তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করছে, যার ফলে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রত্যাশিত উন্নতি সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর