ঢাকা: গ্রামে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাবে জনগণের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, পরিবর্তন শুধু ক্ষমতাসীনদের মুখে হয়েছে, রাষ্ট্রের চরিত্রে হয়নি।
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীতে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার ১ দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ঐতিহাসিক ১ আগস্টকে কেন্দ্র করে এনসিপি শহিদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে দিনটি পালন করতে চেয়েছে। কারণ তাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত রূপকার শহিদ ও আহতরাই। যারা সন্তান, ভাই, বাবা কিংবা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের কষ্টই সবচেয়ে বেশি এবং তাদের ত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ঘটিয়ে একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও রাষ্ট্রের মৌলিক কোনো পরিবর্তন হয়নি। শেখ হাসিনার পতনের মধ্যেই জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিল মূল উদ্দেশ্য, যা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন চেয়েছিলেন এবং এখন তারাই ক্ষমতায় বসেছেন। ফলে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি।’ বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়নি, শহিদ পরিবার বিচার পায়নি এবং আহতরা পুনর্বাসিত হয়নি।’
সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫০০-এর বেশি ভাইবোন চোখ হারিয়েছেন । এর দুই বছর পর আমাদের আরও এক ভাইয়ের চোখ চলে গেল। শেখ হাসিনার পথ ধরেই তারেক রহমান একজন কিশোরের চোখ কেড়ে নিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিএনপি সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। জেলায় জেলায় অসংখ্য মামলার কারণে বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে ট্রাইব্যুনালের অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে গেছেন, আহতদের স্বাস্থ্য কার্ড কার্যকর নেই এবং শহিদদের কবর সংরক্ষণেও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, দুই বছর পরও জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, অথচ হামলার অভিযুক্তরা জামিন পাচ্ছেন। শহীদ পরিবার ও আহতদের ডেকে এনসিপির বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭২ সালের সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়।’
জুলাই গণহত্যা, ওসমান হাদি হত্যা এবং গুম-খুনের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ব্যর্থ হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হওয়া উচিত বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ।’
জনগণ কোনো সরকারকে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার অবাধ অনুমতি দেয় না এবং সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন জনগণই করবে বলে উচ্চারণ করেন তিনি।