Thursday 06 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সংস্কার না হলে বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থাকবে: নাহিদ ইসলাম

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৮ | আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার না হলে বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

‎বার্তার শুরুতে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, পাঁচ আগস্ট বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন এবং এটি বাংলা বদ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা থেকে শুরু করে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, ফরায়েজি আন্দোলন, রজব আলির বিদ্রোহ, লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় অর্জিত স্বাধীনতায় জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‎নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ চব্বিশ বছরের বৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই শেষে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের লাল-সবুজের পতাকা অর্জিত হলেও, পরবর্তীতে দফায় দফায় সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত নেমে এসেছে। এক এগারোর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ওপর এক ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ ও আওয়ামী জুলুমতন্ত্র চেপে বসেছিল।’

‎জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি চারণ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘ছাত্রদের ন্যায্য কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সংগ্রামে বাকশালি অপশক্তির পতন ঘটে। চৌদ্দ শত শহিদ এবং ত্রিশ হাজার আহতের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ৫ আগস্টের এই বহুল প্রতীক্ষিত মুক্তির প্রভাত এসেছিল।’

‎তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়লগ্নের পর থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অসহযোগিতার কারণে শহিদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনও বাস্তবে রূপ পায়নি। বিপ্লবের দুই বছর পরও সরকারের নজিরবিহীন দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎ঐতিহাসিক এই ক্ষণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং ২৪-এর সকল গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।’

‎পরিশেষে শহিদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ, হৃদয় তরুয়াসহ সকল শহিদের আমানত রক্ষা করার জন্য দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে শামিল হওয়ার বার্তা দিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে বক্তব্য শেষ করেন।

বিজ্ঞাপন
সারাবাংলা/এনএল/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর