ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল তা এখনো পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জনআকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে স্থায়ী কোনো সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি সরকারকে দ্রুত সংস্কারের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ শীর্ষক স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করলেও জনগণের প্রত্যাশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও একটি সার্বিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে জনগণের মতামতের সেই অঙ্গীকার থেকে সরে আসা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’
তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলন কোনো একক দলের ছিল না, এটি সর্বস্তরের মানুষের একটি গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছিল। তরুণ সমাজ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, সেই প্রত্যাশা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। দেশে আবারও পুরোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
রাজনীতিতে ৫ আগস্টের তাৎপর্য তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এই দিনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।’ আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি উপস্থিত সবাইকে শহিদদের লেখা চিঠিগুলো অনুধাবন করার আহ্বান জানান।
তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো ষড়যন্ত্র বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না। তরুণ সমাজ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনের বর্তমান অস্থিরতা শহিদদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণের পরিপন্থী।’ তিনি অনতিবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি ও সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।