Saturday 05 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ শুরু

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪৪ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৩

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ১১ দলের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে বরদাশত করা হবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ ছয় দফা দাবিতে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ আজ চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাতে অতিষ্ঠ। তাদের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে। কোথাও গ্যাস নেই, পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই। অথচ গ্যাসের বিল যথারীতি আছে, বিদ্যুতের ‘ভুতুড়ে’ বিল আছে। পানির সমস্যা নিয়ে কথা বলারও সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

ছবি: সারাবাংলা

সিফাত নামের এক তরুণকে গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই তরুণের মুখের ভাষাকে তারা সমর্থন করেন না। তবে যে বিষয় নিয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, সেই বিষয়ে দেশের কোটি কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জে উঠবে।

তিনি বলেন, ‘তাকে ছেড়ে দিন। ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দিন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন- এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি একদম উলটপালট করে দিয়েছিল।’

লংমার্চ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তারা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য রাস্তায় নামেননি। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবির পক্ষে তারা রাস্তায় নেমেছেন। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না। তাদের কর্মসূচির ‘ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ এরই মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থে তারা এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। গন্তব্যের পথে বাধা এলে জনগণের অধিকারের জন্য তারা লড়াই করবেন। কোনো বাধাকেই তারা পরোয়া করবেন না এবং ইনশাআল্লাহ গন্তব্যে পৌঁছাবেন। আন্দোলন শুধু রাজপথে নয়, জাতীয় সংসদেও চলবে। ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এর আগে সকাল ৭টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শুরু হয়। এতে ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়। পথে কাঁচপুর, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা।

১১ দলের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

উদ্বোধনী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আনোয়ারুল ইসলাম চান, মুফতি ফখরুল ইসলাম, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ড. রেজাউল করিম ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৩

আরো

সম্পর্কিত খবর