যশোর: টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা যতবার নির্বাচন করেছে, ততবারই ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন টুঙ্গিপাড়া কোটালীপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল আয়োজিত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচারের দাবিতে গণসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এস এম জিলানী বলেন, ‘শেখ হাসিনা ফ্যাসিবাদ এটাই সত্য। শেখ হাসিনা পালানোর মধ্যে দিয়ে তার চ্যাপ্টার ক্লোজ। টুঙ্গিপাড়ায় শেখ হাসিনা যতবার নির্বাচন করেছে, ততবারই ব্যালটে সিল মেরে নির্বাচিত হয়েছে। এই প্রথম টুঙ্গিপাড়া কোটালীপাড়ার মানুষ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থেকে ভোট দিয়েছে। এমনকি জাতীয়তাবাদীতে বিশ্বাসী হয়ে তারেক রহমানকে জনসমর্থন দিয়েছে। বিএনপি শেখ হাসিনার মতো ভোট ডাকাতিতে বিশ্বাসী নয়।’
শেখ হাসিনা যে রাস্তা দিয়ে ফিরবে, সেই রাস্তায় বরণ করতে প্রস্তুত স্বেচ্ছাসেবক দল মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতে পায়, ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবে। আমরা চায় তিনি দেশে ফিরুক। তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। শেখ হাসিনাকে বরণ করতে অপেক্ষা করছি। আপনাকে অনুরোধ জানায়, কোন দিক দিয়ে আসবেন, একটু জানিয়ে আসবেন। ৫ আগস্ট তো বরণ করতে পারেনি; যে দিক দিয়েই আসবেন, সেই দিকে বরণ করা হবে। আমরা সত্যি সত্যিই বরণ করবো; যদি আপনার সাহস থাকে! আপনি বলেছিলেন, মুজিবের মেয়ে পালায় না, শেখের বেটি পালায় না। আপনি পালিয়েছেন, বারবার পালিয়েছেন। পালায় না শুধু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া।’
সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, ‘জনগণ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে যে ভাবে বিতাড়িত করেছে। ঠিক একই ভাবেই এদেশের তার সকল অন্যায় অপর্কমের শাস্তি নিশ্চিত হবে। বর্তমান তারেক রহমানের সরকার হাসিনার মতো ধর তকতা মার পেরেক নয়। সরকার বৈধ ভাবে নিয়মতান্ত্রিক ভাবে দেশ চালাচ্ছে। দেশের আইনের শাসন শুরু হয়েছ। কেবল শেখ হাসিনা নয়, তার দোসরদেরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সকল অন্যায় অপকর্মের বিচার এবং শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন, ন্যায় বিচার ভিত্তিক, মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা। অতি অল্প সময়ের মধ্য প্রধানমন্ত্রী সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, আজকে যারা বিরোধী দল আছেন তারা বিএনপিকে হুমকি দিচ্ছেন। বিএনপিকে হুমকি দিয়ে লাভ নেই। বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের বাক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য। আমরা সকল সংকট মোকাবেলা করতে জানি। কিন্তু যারা হুমকি দিচ্ছেন তাদের সাথে গোপনে প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্টের আতাত ছিল। তারা কারও না কারও কাঁধে ভর করে টিকে ছিলো। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিষ্কন্টক রাখা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান অধ্যাপক নার্গিস বেগম ।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমীর ফয়সালের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজেদুর রহমান সাগরসহ অন্যান্যরা।