ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। এই ৫ ব্যাংক নিয়ে গঠিত ব্যাংকটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) যোগদান করায় সকল প্রশাসক প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক শওকাতুল আলম প্রত্যাহারের চিঠি পেয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে কর্তৃপক্ষের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে ফিরেছেন। বাকী চার প্রশাসককে আগামী সপ্তাহে প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রত্যাহার করা তালিকায় থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা হলেন- সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের মো. মোকসুদুজ্জামান এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম।
বাংলাদেশ গত বুধবার অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের তাদের প্রত্যাহার করে আগামী সপ্তাহে চিঠি পাঠানোর কথা রয়েছে বলে সূত্র জানায়।
জানা গেছে, গত জুনে সরকার কাজী শায়রুল হাসান-কে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আবেদুর রহমান শিকদার-কে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব গ্রহণের পর পর্যায়ক্রমে প্রশাসক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা আপাতত এক্সিম ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়কে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করছেন।
গত সোমবার গভর্নর মোস্তাকুর রহমান-এর সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে রোববার ৫ ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে সভা করেন গভর্নর।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৫ ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্সিম ব্যাংকের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শওকাতুল আলম। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সালাহ উদ্দিন। তবে পরে তাকে প্রত্যাহার করে আবুল বাশার-কে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব পান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. মোকসুদুজ্জামান। ইউনিয়ন ব্যাংকের দায়িত্ব নিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম। তাদের সঙ্গে আরও চারজন করে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পাঁচ ব্যাংকে মোট ২৫ কর্মকর্তা দায়িত্ব পান।