ঢাকা: টানা বৃষ্টির প্রভাবে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ছুটির সকালে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হয়ে মাঝারি পর্যায়ে রয়েছে। সকালে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থানে ছিল। তবে এই মান জনসাধারণের জন্য গ্রহণযোগ্য হলেও শিশু, বয়স্ক, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়া ও বায়ুদূষণ সম্পর্কিত তথ্যে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে বাতাসে ভেসে থাকা ধুলাবালি ও ক্ষতিকারক কণা ধুয়ে মুছে যায়, যার কারণে সাময়িকভাবে বায়ুর মানের কিছুটা উন্নতি ঘটে। তারা বলেন, সাময়িক বৃষ্টিতে বাতাস কিছুটা পরিষ্কার হলেও যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের ধুলাবালি, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং লাগামহীন নগরায়ণের ফলে ঢাকার বায়ুদূষণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একিউআই স্কোর সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ঝুঁকিমুক্ত নয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, হৃদরোগী এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভোগা ব্যক্তিদের অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকা এবং জরুরি প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তারা আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের কারণে বছরজুড়ে বহু মানুষ স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় অকালমৃত্যুর মুখে পড়েন।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার-এর রিয়েল-টাইম তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকা কিছুটা পিছিয়ে এলেও নিয়মিতই শীর্ষ তালিকার আশপাশে অবস্থান করছে। বৃহস্পতিবার সকালে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান শীর্ষ দশের মধ্যে থাকলেও বৃষ্টির প্রভাবে শুক্রবার সকালে বায়ুর মানের কিছুটা পরিবর্তন আসে। বৈশ্বিক একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী ৫০ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।
পরিবেশবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৃষ্টির প্রভাবে বায়ুর মানের যে সাময়িক উন্নতি ঘটছে, তাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তারা বলেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ধোঁয়া বন্ধ করা, মেগা প্রজেক্ট ও গৃহনির্মাণ স্থলে ধুলাবালি রোধে ঢাকনা বা পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা, শিল্পকারখানার ক্ষতিকর নির্গমন রোধ এবং ব্যাপকভাবে সবুজায়ন বাড়ানো ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা আরও বলেন, এসব ব্যবস্থা জোরালোভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে রাজধানীর বাসিন্দারা একটি স্থায়ী ও স্বাস্থ্যকর বাসযোগ্য পরিবেশ পাবেন।