Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শিশুদের মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিতে সারাবছর সচেতনতা কার্যক্রমের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৮

ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬।

শনিবার (১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠানটি হয়। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো, ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক মানসিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক। অতীতে পরিবারে শিশুর লালন-পালন এবং মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার বিষয়ে যে সচেতনতা ও গুরুত্ব ছিল, আধুনিক জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চর্চা অনেক ক্ষেত্রে কমে এসেছে। জন্মের পরপরই নবজাতককে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা, কর্মব্যস্ততা এবং পরিবর্তিত জীবনধারার কারণে অনেক মা শিশুকে প্রয়োজনীয় সময় মাতৃদুগ্ধ পান করাতে পারছেন না।’

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন তিনি। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সুস্থ, সক্ষম ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আধুনিক হয়ে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নবজাতকের জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ পান নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। মায়ের দুধ শিশুর সর্বোত্তম ও প্রাকৃতিক খাদ্য। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি মায়ের স্নেহ, স্পর্শ ও মাতৃদুগ্ধ শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। পরিবারে অশান্তি, অবহেলা কিংবা শিশুকে দীর্ঘসময় মায়ের কাছ থেকে দূরে রাখার নেতিবাচক প্রভাব শিশুর আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে।’

সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অপুষ্টির কারণে অনেক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা গেলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে এবং সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়বে। অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সুষম খাদ্যের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিশুর খাদ্য হিসেবে মায়ের দুধের পরিবর্তে বাজারজাত বিকল্প খাদ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও কাঙ্খিত স্বাস্থ্যগত সুফল নিশ্চিত করতে এখনও সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।নিয়মিত ও সঠিকভাবে মাতৃদুগ্ধ পান করালে মায়েদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেতে পারে। তাই মাতৃদুগ্ধ পানের গুরুত্ব সম্পর্কে পরিবার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে।’

সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবার পরিকল্পনার মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর