ঢাকা: জনতা ব্যাংকসহ দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে নিয়মিত পদোন্নতি নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পদবঞ্চনা দূর করার দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ।
শনিবার (০১ আগস্ট) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরে সংগঠনটির সদস্যরা বলেন, সুপারনিউমারারি পদোন্নতির জটিলতা এবং নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজারো যোগ্য কর্মকর্তা বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহের হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আশিকুর রহমান, জহির রায়হান, খালিদ সাইফুল্লাহ, জাকির হোসেন, সুমন ঘোষ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সনিয়া, সম্রাট ও সৈকত হকসহ অন্যান্য নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম ও সেবার পরিধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কৃষি ও শিল্প খাতে ঋণ বিতরণ, রাজস্ব আদায়সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে এসব ব্যাংক। কিন্তু দায়িত্ব ও কাজের পরিধি বাড়লেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
সংগঠনটির নেতারা দাবি করেন, মূলত দুটি কারণে পদোন্নতি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। প্রথমত, সুপারনিউমারারি পদোন্নতি অর্গানোগ্রামের বাইরে হওয়ায় পরবর্তীতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নিয়মিত পদোন্নতি কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন না হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদসংখ্যা পুনর্নির্ধারণে বিলম্বের কারণে শূন্য পদের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা পদোন্নতি পাচ্ছেন না।
বক্তারা বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মানবসম্পদ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে কর্মস্পৃহা কমে যায় এবং তার প্রভাব প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কর্মদক্ষতার ওপর পড়ে। তাই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে গুড গভর্নেন্স বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের যথাযথ মূল্যায়নের পাশাপাশি নিয়মিত পদোন্নতির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে থাকায় অনেক কর্মকর্তা একই পদে চাকরিজীবনের বড় একটি সময় পার করছেন। এতে ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদের নেতারা দ্রুত নতুন অর্গানোগ্রাম অনুমোদন, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি এবং নিয়মিত পদোন্নতির কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ একটি প্রেসার গ্রুপ ও থিংক ট্যাংক হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর উন্নয়ন, সুশাসন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সংগঠনের আহ্বায়ক মোতাহের হোসেনসহ উপস্থিত নেতারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।