Saturday 01 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও ‘আয়নাঘরে’ রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৩৮

ঢাকা: বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ভারত পাচারের আগে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলের কথিত ‘আয়নাঘরে’ আটক রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ কার্যালয়ে টিএফআই সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একই স্থানে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আহমেদ বিন আরমান-কেও রাখা হয়েছিল। টিএফআই সেলে সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাস্থল সরেজমিনে দেখানোর উদ্দেশ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, পরিদর্শনের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘মেমোরেন্ডাম অব ইন্সপেকশন’ আকারে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হবে।

পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন বিচারপতি, প্রসিকিউশন টিম, তদন্ত সংস্থার সদস্য, মানবাধিকারকর্মী, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও পরিদর্শনে অংশ নেন।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘আয়নাঘরের’ আলামত নষ্ট করার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, টিএফআই সেল ২০০৫ সালে গঠিত একটি বিশেষ ইউনিট এবং অভিযোগে বর্ণিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে র‍্যাবের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

উল্লেখ্য, টিএফআই সেলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় তারা র‍্যাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, এম খুরশীদ হোসেন, হারুন অর রশিদ এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম। প্রসিকিউশনের দাবি, তারা পলাতক রয়েছেন।