Saturday 08 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

হাসিনা কার্ড খেলবেন, আবার সুসম্পর্ক চাইবেন, দুটি বিপরীতমুখী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৮ আগস্ট ২০২৬ ১৬:৫৪ | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাবি: বাংলাদেশের পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ায় ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, একদিকে হাসিনা কার্ড খেলবেন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাইবেন। দুটি বিপরীতমুখী।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাদা দল ও ‘ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পত্রিকায় দেখলাম, ভারতের মুখপাত্র বলছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা যা বলেছে, তা ভারত সমর্থন করে না। তো ভারত কি তাকে বারবার মিটিং করতে দেয়াটা এটা সমর্থন করে? এইভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে না। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, আমরা বাইলেটারাল রিলেশন রাখব। আমাদের এই বাইলেটারাল রিলেশনশিপের মধ্যে ইন্টারডিপেনডেন্সি আছে এবং এই ইন্টারডিপেনডেন্সিকে আমরা শক্তি হিসেবে মনে করি। আমরা আপনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। তবে আমরা কখনো আওয়ামী লীগ হতে পারব না। আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সমুন্নত রেখে অন দ্য বেসিস অফ মিউচ্যুয়াল ডিগনিটি অ্যান্ড রেসপেক্ট, অ্যান্ড অন দ্য বেসিস অফ দি সোভারেন ইকুয়ালিটি, আমরা আপনাদের সাথে সম্পর্ক রাখব। তার মানে এই না, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন। দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এখন বলা হচ্ছে, তারেক রহমান লন্ডনে বসে এবং সালাউদ্দিন সাহেব ভারতে বসে যদি রাজনীতি করতে পারে হাসিনার দোষ কি? হ্যাঁ, হাসিনার দোষ আছে! আমরা কেউ ফ্যাসিবাদী ছিলাম না। আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করায় আমাদেরকে জোরপূর্বক নির্বাসিত করা হয়েছে। এটা হচ্ছে হাসিনার সাথে আমাদের ব্যবধান। আর হাসিনার সঙ্গে আমাদের আরও ব্যবধান আছে। ভারতের পার্লামেন্টে জয়শঙ্কর সাহেব বক্তৃতা দিলেন যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তিনি যোগাযোগ করেছেন, তিনি পালিয়ে গিয়েছেন এবং হিন্দন এয়ারপোর্টে আপনাদেরই একজন মন্ত্রিপরিষদের মানুষ, নেতা তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এগুলো আমাদের সঙ্গে ব্যতিক্রম আছে। আর আমাদেরকে বস্তাবন্দী করে হাত-পা, চোখ বেঁধে তারপর বস্তাসহকারে ওখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যতিক্রমগুলো আছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা এই দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৪০০ এরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন, সেখানে নারী-শিশুর হার ছিল ১৩-১৪ শতাংশ এবং আসমান থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে এ দেশের জনগণকে হত্যা করেছেন। এরপরেও কি তাকে ডেমোক্রেটিক কালচারের কোনো নেতা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারি- এ প্রশ্নটা রইল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসময় আওয়ামীলীগের বিচার ও নিষিদ্ধের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, হিটলারের গণহত্যার পর তার দলের বিরুদ্ধে বিচার হয়েছে। আমরা আমরাও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে বিচারের কথা বলছি। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে সেই আইনটা করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টে সেটা আছে। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ী সময়ের জন্য স্থগিত হবে কি হবে না এই বিধানগুলো সেখানে দেয়া আছে। এবং তাদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কিনা সেটাও ওখানে বলা আছে সেই আইনে। তদন্ত হচ্ছে, আমরা আশা করব সে তদন্ত শেষ হবে। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার সমাপ্ত হয়েছে, আরও অনেকগুলো এখন ফরমাল চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারগুলো চলবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে হাসিনার নামে ফাঁসির রায় আছে এবং আরও মামলা চলমান আছে। কিন্তু এই ফ্যাসিস্টের কোনো অনুশোচনা নাই! বাংলাদেশের মানুষের সামনে দুঃখ প্রকাশ করে নাই। কিন্তু একটা বিষয় খুব ভালো জানে। বলে যে যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেছে, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা নাকি জঙ্গিবাদী তৎপরতার মধ্য দিয়ে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে। যদি অপতৎপরতা এবং মিথ্যা বলার কোনো বক্স অফিসে চ্যাম্পিয়ন হতো, সেটা হলো হাসিনার বাক্স।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর