Friday 04 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না: জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৫৪

বক্তব্য দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঢাবি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ আপনারা বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউই সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না—এটা আমরা আশা করি। আপনারা ধর্মের ভিত্তিতে পরিচয় দেবেন না, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে দেবেন। পরিচয় দেবেন এদেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে।’

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পলাশীতে জন্মাষ্টমীর মিছিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যাকরণগতভাবে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটা ব্যবহার করি। কেননা এই শব্দটা সাহিত্যে উঠে এসছে যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। ভালো হতো যদি এই সাম্প্রদায়িক শব্দটা আমরা ব্যবহার না করতাম। আমরা যদি বলতাম, সামাজিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব, তাহলেই তা সুষ্ঠু হতো। তাহলে আমরা আজকে থেকে কী বলব? ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখব, সামাজিক সম্প্রীতি এবং শান্তি বজায় রাখব।’

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে যারা মনে করত, এদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের ভোট তাদের ভোট ব্যাংক, সেই ভ্রান্ত ধারণা আপনারা ভেঙে দিয়েছেন। কারণ আমরা সবাই বলি, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার এবং নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে সকল ধর্মের ধর্মচর্চার, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রকে। বলা হয়েছে, ধর্ম নিয়ে বৈষম্য করা যাবে না। ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সকল ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ে যারা থাকবে তাদের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা শুধু সেটা কিতাবে, সংবিধানে ধারণ করেই বসে থাকতে চাই না। বাস্তবে আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব। এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি, এখনো পর্যন্ত সেই নিশ্চয়তা আমরা বিধান করেছি। রায় আপনারা দেবেন, বিচারক আপনারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এদেশের সবাই নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে চাই। ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয়টা এখানে মুখ্য নয়। আমরা নাগরিকের পরিচয়ে এখানে থাকতে চাই। বাংলাদেশের সকল নাগরিক—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, নৃগোষ্ঠী যারাই হোক তারা ধর্মীয়ভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ধর্মীয় স্বাধীনতা বহাল থাকবে, বজায় থাকবে, পালন করবেন। কিন্তু জাতীয়তা হিসেবে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে থাকব, আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি থাকবে। এই একটাই হবে আমাদের পরিচয়। এজন্যই আমরা বলি, আমাদের নেতা বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তাহলে আমরা সবার আগে বাংলাদেশি। তারপরে আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়। আমরা সবার আগে বাংলাদেশি এবং সবার জন্য বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ—এই হচ্ছে আমাদের নীতি।’

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত আরও ৫১২
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪০

আরো

সম্পর্কিত খবর