ঢাকা: বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আরও তিন বছর বাড়ানোর আবেদন জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (১২ আগস্ট,) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে ‘আসিয়ানে হালাল পণ্যের বাজার: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘে আবেদন করা হয়েছে এবং এর দুটি ধাপ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ইউএনজিএ’র ৮১তম ফার্স্ট সেশনে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি জানান, তিন বছর পর গ্র্যাজুয়েশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডেভেলপিং কান্ট্রিতে উন্নীত হবে এবং এই গ্র্যাজুয়েশন যেন মসৃণ হয়, সেজন্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার প্রয়োজন।
এই প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন,জাপানের সঙ্গে একটি ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট শুরু করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে একটি ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং আগামী দিনে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার সাথেও এফটিএ চুক্তি করা হবে।এ ছাড়াও আরও ১০-১২টি দেশের সাথে এফটিএ নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও প্রায় এক মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে এফটিএ আলোচনা শুরু হবে।
বিনিয়োগের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা প্রধানত দেখতে চান বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রেফারেন্সিয়াল বা অনুকূল প্রবেশাধিকার আছে কি না, যা অর্জনের মাধ্যম হলো ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট।
বিএসটিআই এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি স্বাধীন সার্টিফাইং এজেন্সি করার প্রস্তাবটি একটি আকর্ষণীয় প্রস্তাব এবং এ বিষয়ে চিন্তা করা যেতে পারে। পাশাপাশি হালাল টেস্টের জন্য অতিরিক্ত চার্জ নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। রফতানি বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত বিনিয়োগ, বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ এবং জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে ।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগের উপ-পরিচালক ও প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আকতার হোসেন এবং বিএসটিআইয়ের হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম আবু সাঈদ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।