Wednesday 12 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যা মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২০

জোবায়েদ হোসেন।

ঢাকা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় তা বিচারিক আদালতে বদলির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ জুন মামলার তদন্ত শেষ করে বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত সংস্থার দাবি, তিন আসামিই আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে বলা হয়, জোবায়েদ হোসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি টিউশনি করতেন এবং দীর্ঘদিন বর্ষার বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে পাঠদান করতেন। এ সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অন্যদিকে বর্ষার সঙ্গে মাহির রহমানের পূর্ব থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর মাহির ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন।

তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, জোবায়েদের কাছে নিজের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার জন্য মাহিরকে প্ররোচিত করেন বর্ষা। পরে মাহির তার বন্ধু আয়লানকে সঙ্গে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একটি সুইচ গিয়ার ছুরি সংগ্রহ করা হয় এবং ঘটনাস্থল কয়েক দিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার দিনসহ তার আগে জোবায়েদ ও বর্ষার মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে তারা পরস্পরের সঙ্গে লাইভ লোকেশনও শেয়ার করেন। একই সময়ে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বর্ষা জোবায়েদের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য মাহিরকে জানাচ্ছিলেন।

তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেলে জোবায়েদ টিউশনি করাতে বর্ষাদের বাসায় গেলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির ও আয়লান সেখানে ওত পেতে ছিলেন। ভবনের নিচতলায় মাহির কথোপকথনের একপর্যায়ে জোবায়েদের গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠার চেষ্টা করলেও তৃতীয় তলার সিঁড়িতে লুটিয়ে পড়েন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওইদিন সন্ধ্যায় বর্ষা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জুনিয়রকে তার হত্যার খবর জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন তার মরদেহ কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঘটনার পরদিন, ২১ অক্টোবর, জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিন বর্ষা, মাহির ও আয়লান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর