ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এনসিসি ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) পুনর্বিবেচনার আবেদন শুনানি শেষে আদেশের জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানিতে তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেন, মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে একাধিক অসংগতি রয়েছে। এসব ত্রুটির কারণে তার মক্কেলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।
এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আদালতকে জানান, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে বর্তমান প্রসিকিউশন কোনো অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পায়নি। তার ভাষ্য, পর্যাপ্ত অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। তিনি মামলাটিকে ‘অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ’ বলেও উল্লেখ করেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের ভিত্তি (প্রাইমা ফেসি) না থাকলে কীভাবে এ ধরনের মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছিল, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
পরে আসামিপক্ষের আরেক আইনজীবী মো. জামিল হক সাংবাদিকদের বলেন, মামলাটিতে একাধিকবার তদন্ত হলেও তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার দাবি, পুনঃতদন্তের প্রতিবেদনে অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ না থাকলেও তৎকালীন প্রসিকিউশন সেই তথ্য গোপন রেখে আগের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে চার্জ গঠনের আবেদন করেছিল। পরে ২০২৪ সালে সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে চার্জ গঠন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে জামিন পাওয়ার পর চার্জ গঠনের আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আগামী ৩১ আগস্ট আদেশের দিন ধার্য করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মিসকেস (বিবিধ মামলা) দায়ের করা হয়। সে সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ১৬ মে তার অনুপস্থিতিতেই তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল ফেনী সদর উপজেলার ফকিরহাট বাজারে আবুল হোসেনের দোকানে হামলার সময় তোফাজ্জল হোসেনসহ কয়েকজন সশস্ত্র রাজাকার উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি রাইফেল দিয়ে গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যা এবং আরেকজনকে আহত করেন বলে অভিযোগ আনা হয়।
তবে আসামিপক্ষের দাবি, পুনঃতদন্তে ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং তদন্ত কর্মকর্তার সেই প্রতিবেদন তৎকালীন প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করেনি। এখন এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ৩১ আগস্ট।