Wednesday 26 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:১৪ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:১৫

ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সাদা পোশাক ও টুপি পরা মানুষের উপস্থিতি, কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, রঙিন ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ সুফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান পরিণত হয় মানুষের বিশাল মিলনমেলায়। নারী, পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিজ্ঞাপন

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল ‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কালেমাখচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও নানা বার্তাসংবলিত ফেস্টুন। বিশাল জাতীয় পতাকা বহন করেও অনেকেই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

ছবি: সারাবাংলা

অংশগ্রহণকারীদের গায়ে ছিল সাদা টি-শার্ট, মাথায় সাদা ক্যাপ। শোভাযাত্রার পুরো পথে মুখরিত হতে থাকে ‘নারায়ে তাকবীর’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’সহ নানা ধর্মীয় স্লোগান। নবীপ্রেমের আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তৈরি হয় এক ভিন্ন আবহ।

শোভাযাত্রা শেষে শান্তি সমাবেশে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তার শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (দ.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (দ.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি। ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (দ.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

শান্তি মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন এবং মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দী, গ্লোবালে ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর এমিরেটস ডক্টর আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আখতারুজ্জামান।আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আজহারী,মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।

মহাসমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় আবেগ ও শান্তির বার্তায় মুখর এ আয়োজন শেষে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ সুফি ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর