ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারেক রহমান তখন রাজনীতিতে নবীন, তাকে বন্দি করার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি যেন আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। এটি শুধুই কোনো ছোটখাটো বা কেবল দেশীয় ষড়যন্ত্র ছিল না, এটি ছিল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের যৌথ বহিঃপ্রকাশ।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে বন্দি করা ছিল এ যৌথ চক্রান্তেরই অংশ। জিয়াউর রহমানের যে কৃতিত্ব, সততা, নিষ্ঠা, উৎপাদন, উন্নয়ন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা এবং একটি জাতিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার ঐতিহাসিক অর্জন, সেই সফলতার পতাকাই বহন করছেন তারেক রহমান। অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের দুর্ভিক্ষ, লুটপাট, সহিংসতা, বিরোধী দল দমন, রক্তপাত, পত্রিকা ও রাজনৈতিক দল বন্ধ করে মানুষকে এক রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত করেছিলেন, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে কথা বলার ও মুক্তকণ্ঠে আওয়াজ তোলার স্বাধীনতা পায়।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যার সহায় এবং জনগণ যার পাশে থাকে, কোনো চক্রান্ত তাদের পরাস্ত করতে পারে না। সেদিন তারেক রহমানের ওপর কেবল মানসিক বা কারাবন্দি করার অত্যাচারই চালানো হয়নি, তাকে শারীরিকভাবেও নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। সেই শারীরিক আঘাতের ক্ষত তিনি আজও বহন করে চলেছেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ২০১৮ সাল থেকে তিনি গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও উদ্বুদ্ধ করে আসছেন। শেখ হাসিনার ভয়ংকর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের দরজা খোলার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সংগঠনের মাধ্যমে কিংবা অঙ্গসংগঠনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে নিয়মিত সহানুভূতি ও সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানকে নিয়ে কত অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং এখনও চলছে। কিন্তু জনগণ দেখছে যে তিনি আজ প্রধানমন্ত্রী হয়ে দিন-রাত শুধু ঘরে বসে বা ঘুমিয়ে থাকেননি। দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পূরণ করে যাচ্ছেন। আজকের মুক্ত পরিবেশ আর সেই দুঃসময়ের চিত্র এক ছিল না। তখন নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠান বা প্রোগ্রামের স্থান-কাল গোপন রাখা হতো। মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের জানানো হতো। সেই চরম ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সংবাদকর্মীরা আমাদের ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছিলেন, যার কারণে প্রতিটি কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হয়েছিল।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর হেলাল। এছাড়া অনুষ্ঠানে উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের নেতাকর্মীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।