Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পরকীয়ার বলি মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৪২ | আপডেট: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৬:৪৫

ঢাকা: বন্ধুর থেকে ফোন নম্বর নিয়ে রং নাম্বারে বিবাহিত নারীর সাথে প্রেম। এরপর বিষপান করিয়ে হত্যা করা হয় মাধুরী নামের এক গৃহবধূ এবং তার মেয়ে শ্রেষ্ঠাকে। সম্প্রতি এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগ।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন এ তথ্য জানান।

উপ কমিশনার বলেন, আসামি বিধান দাসের সাথে নিহত নারী মাধুরীর ৫ মাসের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে মাধুরী বিধানকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। স্বামীকে বাপের বাড়ি যাচ্ছে বলে মেয়েকে নিয়েও চলে আসে বিধানের খোঁজে বরিশাল। আবাসিক হোটেলে থেকে সেখানে বিধানের সাথে ঘটে শারীরিক সম্পর্ক।

বিজ্ঞাপন

তবে বিয়ে না করার ফন্দি আঁটে বিধান। বিয়ের আশ্বাসে লঞ্চে করে ঢাকায় আসার পথে লঞ্চে পানির মধ্যে কীটনাশক মিশিয়ে দেয় বিধান। এরপর তারা কয়েকবার বমি করলে পরে ওষুধ আনার কথা বলে লঞ্চ থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্ত্রী ও মেয়ের হত্যার ঘটনায় মাধুরীর স্বামী পিংকু মজুমদার মামলা করেন। অপমৃত্যু মামলা রুজু হওয়ার পর থানা পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত আরম্ভ করে। তদন্তে জানা যায় যে, আট বছর আগে খুলনা জেলার তেরখাদা থানার পিংকু মজুমদারের সাথে মাধুরী বিশ্বাস বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং তাদের সাত বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মেয়ে শ্রেষ্ঠাসহ মাধুরী বিশ্বাস গত ২৮ নভেম্বর সকালে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর মাধুরী ও তার শিশু কন্যার আর কোনো খোঁজ মেলেনি।

তদন্তের সময় সন্দেহভাজনভাবে বিধান দাসের সন্ধান পায় পুলিশ। যার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামি সব ঘটনা স্বীকার করেছে। এরই মধ্যে তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঘটনার দায় স্বীকার করে সে নিজেকে জড়িয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

সারাবাংলা/ইউজে/আরএস