Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

২৮ মার্চ ১৯৭১ / প্রবাসী বাঙালিরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৫ ০৮:০০ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৫ ০৮:১৩

২৮ মার্চ ১৯৭১। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ। প্রথম দফা কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ ওঠানোর পর ফের কারফিউ দেয়। ‘কালরাতে’র পর এদিন দুপুরের দিকে ঢাকার কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেও বেশিরভাগ জায়গা ছিল জনশূন্য ও ধ্বংসস্তূপ। দিশেহারা মানুষ কেউ স্বজনের সন্ধানে ও কেউ খাবারের সন্ধানে ছুটে বেড়াচ্ছে।

দু’দিন খবরের কাগজ বন্ধ থাকার পর এদিন পাকিস্তান অবজারভার প্রকাশ হয়। পাকিস্তানি সরকারের বিভিন্ন প্রেসনোটের বরাত দিয়ে তাদের খবরেই ভরা ছিল চার পৃষ্ঠা। এখানেই ছোট পরিসরে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ হয়।

এদিন প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যার প্রতিবাদে এবং স্বাধীনতার প্রত্যয়ে বিক্ষোভ ও বিশাল সমাবেশ বিপুল প্রবাসী বাঙালি। লন্ডনের এ সমাবেশে অংশ নেন বিদেশিরাও। চট্টগ্রামের দক্ষিণ থেকে বেলুচ রেজিমেন্ট, উত্তর থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাস এবং কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে অগ্রসরমান পাকসেনাদের হামলায় বাঙালি সেনা, ইপিআর, পুলিশ ও জনতার প্রতিরোধ ব্যূহ টিকতে পারে না। তাই তাদের পিছিয়ে আসার কৌশল নিতে হয়। তবে বঙ্গোপসাগর ও আকাশ থেকে বোমাবর্ষণে চট্টগ্রাম চলে যায় পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ জল-স্থল-আকাশ থেকে আক্রমণের কারণে বাঙালি সেনারা পিছিয়ে যান চট্টগ্রামে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও বরিশালে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সারাদেশে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহকুমা শহরের পুলিশ, ইপিআর, ছাত্র-শিক্ষক, জনতা যার কাছে যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়ে।

অধিকাংশ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যায়। এইসময়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কাজ শুরু করে তরুণরা। ঢাকার রাজনৈতিক তরুণ ব্যক্তিরা স্বউদ্যোগে সম্মিলিত হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি বিষয়ে বৈঠক শুরু করে। এদিন রংপুরের মানুষের জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। লাঠিসোটা, তীর-ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে তারা জন্ম দিয়েছিল এক অনন্য ইতিহাসের।

সারাবাংলা/এফএন/পিটিএম