Saturday 29 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নিজ বাসায় নারীর লাশ: বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক গড়াল খুনে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ মার্চ ২০২৫ ১৩:৪২ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৫ ১৪:৪৬

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রাম নগরীতে তালাবদ্ধ বাসা থেকে অজ্ঞাত হিসেবে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পর তার পরিচয় ও খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিয়েবর্হিভূত সম্পর্কের মধ্যে মনোমালিন্যের জেরে তাকে খুন করেছে তারই সঙ্গী। ডিবি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার (২৯ মার্চ) সকালে নগরীর দামপাড়ায় সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান।

গত ২৬ মার্চ রাতে নগরীর বন্দর থানার কলসি দিঘীর পাড় এলাকায় একটি ভবনে তালাবদ্ধ বাসা থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে ওই নারীর নাম-পরিচয় কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, তাকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। ডিবি খুন হওয়া নারীর পরিচয় উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

এরপর শুক্রবার রাতে ঢাকার পোস্তগোলা থেকে ইব্রাহিম হাওলাদার (২৪) নামে এক যুবককে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে ডিবি।

গ্রেফতার ইব্রাহিম হাওলাদার (২৪)। ছবি: সারাবাংলা

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধারের সময় প্রতিবেশিরা ওই নারী পোশাক কারখানার কর্মী বলে নিশ্চিত করেন। তবে তার নাম-পরিচয় কেউ জানাতে পারেনি। স্বামী পরিচয়ে তার সঙ্গে থাকা যুবক ও চার বছর বয়সী এক ছেলে ওই বাসায় থাকার তথ্য পেলেও লাশ উদ্ধারের সময় তাদেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরবর্তীতে বাসার পাশে একটি দোকানে থাকা ক্যাশ-মেমোতে থাকা একটি মোবাইল নম্বরের সূত্রে হত্যাকাণ্ডের রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।

সংবাদ সম্মেলনের তথ্য অনুযায়ী, ওই মোবাইল নম্বরের সূত্রে ঢাকার পোস্তগোলায় ইব্রাহিম হাওলাদারের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ইব্রাহিম চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাটগামী রয়েল পরিবহনের বাসে তল্লাশি করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ইব্রাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিহত নারীর নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য পায় ডিবি। তার নাম টুম্পা আক্তার (২২)। তার বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তিনি নগরীর সিইপিজেডে প্যাসিফিক জিনস কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান বলেন, ‘টুম্পার সঙ্গে তার স্বামীর ছাড়াছাড়ি হয়। সেই সংসারের চার বছর বয়সী এক ছেলে নিয়ে সে কলসি দিঘীর পাড়ে ভাড়া বাসায় থাকতো। সেখানে স্বামী পরিচয় দিয়ে ইব্রাহিমকে সে সঙ্গে রেখেছিল। বাস্তবে তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না। বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক কন্টিনিউ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে নানা কারণে মনোমালিন্য হয়।’

‘ঘটনার রাতে ঝগড়ার জেরে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে ইব্রাহিম। এরপর টুম্পার ছেলেকে নিয়ে বেরিয়ে যায়। বাসার কাছে রাস্তায় তাকে ফেলে রেখে ইব্রাহিম পালিয়ে যায়,’ – বলেন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

সারাবাংলা/আরডি/এমপি