যশোর: যশোরে হত্যাসহ ১৪ মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম জিতুকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়ার ফুলতলা মোড়ে তাকে কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় যাওয়ার পথে ভোরে নড়াইলে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই এলাকার ১১ মামলার আসামি সুমন মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত শরিফুল ইসলাম জিতু যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বলেন, ‘নিহত জিতু যশোরের একজন কুখ্যাত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে থানায় আটটি মামলা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক সুমনের স্ত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার সময় জিতুকে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়ার ফুলতলা মোড়ে দুর্বৃত্তরা জিতুকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জিতুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।’
নিহতের পিতা সিরাজুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে আসেন। যশোর হাসপাতালে তার ছেলের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলে পৌঁছালে তার মৃত্যু হয়।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার কাজী মাসুম রেজা বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে জিতুকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পুলিশ। তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাতেই ঢাকায় নেওয়ার জন্যে বলা হয়। ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে ভোরে নড়াইলে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মর্গে রাখা হয়েছে।’
যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, ‘এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় সুমন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহত জিতুর বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৪টি মামলা রয়েছে; আর আটক সুমনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১১টি মামলা। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের আটকে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’