ঢাকা: রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগের মুনশিরটেক এলাকায় মাদককারবারের আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওয়ারী বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন—ফরিদ ব্যাপাররি (২৩), মো. সবুজ (২২), শাহাদাত হোসেন আলিফ (১৮) ও রিফাত হোসেন (১৯)। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে দু’টি বিদেশি পিস্তল, দু’টি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত রোববার সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগের মুনশিরটেক এলাকায় মাদককারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে সাধারণ পথচারী ও দোকানদারসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হয়। গতকাল বুধবার রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চারজনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবির ওয়ারী বিভাগের একটি দল যাত্রাবাড়ী থানার ধোলাইপাড় থেকে দয়াগঞ্জগামী সড়কের পাশে গেন্ডারিয়ার মীর হাজীরবাগ এলাকায় ইসরাত কনস্ট্রাকশনের একটি নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেফতারের পর ফরিদ ব্যাপারির কাছ থেকে একটি ৭ দশমিক ৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল, একটি স্টিলের ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তার প্যান্টের সামনের পকেট থেকে ১৬০ পিস ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪৮ হাজার টাকা। অপর গ্রেফতার ব্যক্তি মো. সবুজের কাছ থেকে একটি ৭ দশমিক ৬৫ মিমি বিদেশি পিস্তল ও একটি স্টিলের ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া শাহাদাত হোসেন আলিফের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু এবং রিফাত হোসেনের কাছ থেকে কাঠের বাটযুক্ত লোহার তৈরি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।’
এ ছাড়াও তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অবৈধ অস্ত্র ও মাদককারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গত ৩০ আগস্ট স্বামীবাগ এলাকায় গোলাগুলি ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছবি শনাক্ত হওয়ার পর তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। গোলাগুলির ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’