ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ছিল পেশাদার শ্যুটার মো. জামিল হোসেন ওরফে শ্যুটার জাকির (৪৮)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। সর্বশেষ একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই কথা বলেন।
তিনি জানান, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, পিস্তলের ম্যাগজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি, একটি কালো রঙের বিদেশি রিভলবার, রিভলবারের চেম্বারে থাকা দুই রাউন্ড গুলি ও একটি খালি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, জাকির একজন পেশাদার সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী শ্যুটার। দীর্ঘদিন ধরে সে মিরপুর এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। তার কাছে অস্ত্র থাকার তথ্যের ভিত্তিতেই ডিবির মিরপুর বিভাগ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবে জাকির মিরপুর এলাকায় কাজ করত বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। পরে জয় নিহত হওয়ার পর অপরাধীচক্রের আরেক সদস্য তাজকীরের সহযোগী হিসেবে সে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ৭ জুলাই রাতে সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিজুকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। ওই ঘটনায় জাকির পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার সহযোগী শ্যুটার কাওছার ভূঁইয়া ওরফে শান্ত ওরফে এসবিকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ওই ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা ও গুরুতর আঘাতের অভিযোগে এবং অন্যটি অস্ত্র আইনে দায়ের করা হয়। মামলা দুটি বর্তমানে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করছে। জাকিরের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তার সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং মিরপুরে তার অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত, সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।