পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও প্রহ্লাদ যোশীর নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটির খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শক্রমে ভারতের প্রেসিডেন্ট শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে প্রেসিডেন্ট কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য শ্রী প্রহ্লাদ জোশীকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেছেন।’
প্রহ্লাদ জোশী কর্ণাটকের একজন লোকসভা এমপি। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভোক্তা, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরআগে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি কেন্দ্রীয় কয়লা, খনি এবং সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে প্রায় দুই মাস ধরে ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগ চেয়ে আসছিলেন ভারতীয় তরুণরা। তারা দিল্লির যন্তর মন্তরে এ নিয়ে টানা আন্দোলন করছিলেন। পরে তীব্র আন্দোলনের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সদ্য বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তারা জানান, আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর সদিচ্ছার অংশ হিসেবে আন্দোলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগপত্রে বলেন, তিনি দেশের বিরোধী শক্তিকে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া থেকে বিরত রাখতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সিজেপির আন্দোলন প্রত্যাহারের একদিন আগেই প্রহ্লাদ যোশী বলেছিলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং “অসামাজিক উপাদান” সিজেপি-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক উদ্বেগ ও সংবেদনশীলতা দেখিয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ও তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
যোশী বলেন, ‘মোদি সরকার সবসময় শিক্ষার্থী ও যুবসমাজের পাশে রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন যেকোনো অনিয়ম বা অবিচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি আরও বলেন, ’শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। তবে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, কিছু অসামাজিক উপাদান এই আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের প্রকৃত দাবিগুলো কোনোভাবেই অপব্যবহারের শিকার না হয়।’