Friday 28 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নেপাল-চীন সীমান্তে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে উদ্ধারকর্মীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৯ | আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৯:০৩

বন্যা ও ভূমিধসের পর বেঁচে যাওয়া মানুষদের আকাশপথে সরিয়ে আনার কার্যক্রম চলছে। ছবি রয়টার্স।

নেপালের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এর মধ্যেই নতুন করে দ্বিতীয় বন্যার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেড ক্রসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা বিধ্বস্ত হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, বিবিসির সাংবাদিক লরা বেকার জানান, চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে জল বাড়তে বাড়তে একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। একটি প্রাকৃতিক বাঁধের পেছনে আটকে থাকা এই হ্রদের পানিতে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নেপালে রেড ক্রসের প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেভিড ফিশার বিবিসি নিউজকে বলেন যে, দ্বিতীয় দফা বন্যার সতর্কতা মানুষকে ‘অত্যন্ত উদ্বিগ্ন’ করে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এই ভয়াবহ দুর্যোগে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এখনো হতবাক হয়ে আছে।’

ত্রাণ পরিকল্পনার ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রেড ক্রসের দলগুলো ‘ট্রাক ধরে ধরে’ এগোচ্ছে এবং এখনো তাদের কাঠমান্ডুর গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সামগ্রী নিয়ে আসা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতের এই সম্ভাব্য বন্যার আভাসের কারণে পথে থাকা মানুষদের জীবনহানির আশঙ্কাই আমাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ।’

নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী নদীর তীরে এক ব্যক্তি আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখছেন। ছবি: রয়টার্স

অন্যদিকে, এএফপি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে যে, আকস্মিক বন্যার ফলে সৃষ্ট একটি হ্রদের কারণে বাঁধ ভেঙে গিয়ে ভাটির দিকে বন্যার পানি বয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী তিন দিনে হ্রদটিতে পানির প্রবাহ প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার (৩০০ কোটি লিটার) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। যা ১,২০০টি অলিম্পিক-আকারের সুইমিং পুলের সমান।

সিনহুয়া আরও জানিয়েছে, এটি জিরং বন্দরসহ ভাটির অন্যান্য এলাকায় আরও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এই আশঙ্কা ঠিক এমন এক সময়ে হলো যখন উদ্ধারকারীরা বুধবারের (২৬ আগস্ট) ভূমিধসের পর জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

নেপালের চোচেন নদী এবং পুরুচাংপো জাংবো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ার পর তিব্বতে থাকা চীনা অনুসন্ধানকারী দলগুলো জিরং বন্দরের কাছে বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে দিনভর কাজ করেছে।

তারা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে যে, স্থলভাগে থাকা উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ রাখতে এই জলাশয়টিকে স্থিতিশীল করা একটি অগ্রাধিকার।

দুর্যোগে ত্রিশুলির বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: রয়টার্স।

চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় হ্রদটিতে কী পরিমাণ জল আছে তা অনুমান করার জন্য মডেলিং কৌশল ব্যবহার করেছে এবং এখন বলছে যে, ক্রমাগত বৃষ্টিপাত হলে আগামী তিন দিনের মধ্যে এটি ভেঙে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, তারা সম্ভাব্য ভাঙনের জন্য প্রস্তুতি নেবে এবং জরুরি উদ্ধার প্রচেষ্টায় সহায়তা দেবে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবারের আকস্মিক বন্যায় নেপালে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ এবং অন্তত ৩৮৯ জন মারা গেছেন। তিব্বতে তিনজন মারা গেছেন এবং ৫৫০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, একটি ধসে পড়া হিমবাহের কারণে এই বিশাল বন্যার ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। এই জলোচ্ছ্বাস ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এবং নেপাল-তিব্বত সীমান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং ধ্বংস করে দিয়েছে।

আকস্মিক এই বন্যা এমন এক এলাকায় হয়েছে যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক বেড়াতে আসেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর