নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) এবং পুলিশের হালনাগাদ প্রতিবেদন বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি মরদেহ পাওয়া গেছে নওয়ালপরাসি পশ্চিম ও নওয়ালপরাসি পূর্বের নারায়ণী নদী থেকে।
বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করা মরদেহের সংখ্যা- রাসুয়া- ১২, নুয়াকোট- ৩৭, ধাদিং- ৩৩, খোরখা- ৪৬ (মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গও রয়েছে), চিতওয়ান – ২৮, নওয়ালপরাসি পশ্চিম – ১৩৪, নওয়ালপরাসি পূর্ব – ২২১।
বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রাসুয়া থেকে অধিকাংশ মরদেহ নদীর স্রোতে ভেসে নিচের দিকে চলে গেছে বলেও জানায় পুলিশ।
এদিকে নেপালের সরকার বন্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা শত শত পর্যটকের নাম প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় রয়েছে- ১৭৮ জন ভারতীয় নাগরিক, ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক, ৫৩ জন ইউক্রেনীয়, ৫১ জন মালয়েশীয়, ৩৩ জন অস্ট্রেলীয় এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের জন্য ১৪ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় তিব্বতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এখনো ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।