Wednesday 02 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৫ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৯

মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর দিকে আইআরজিসি-র ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ছবি: এএফপি

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। সেই হামলার জবাবে পালটা হামলা চালালো ইরান।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ এবং এমকিউ-৯ ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গারগুলোকে লক্ষ্য করে একটি ‘ভারী’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইআরজিসি আরও জানায়, এ হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।

তবে হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।

এর আগে জর্ডানের ‘ক্যাম্প তিতিন’–এ মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের ‘অ্যাটক হেলিকপ্টার’ ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।

জর্ডানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট প্রচারিত এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক মুখপাত্র বলেন, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে। এতে কোনো হতাহত বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

এ ছাড়া আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একটি মার্কিন সূত্র জানিয়েছে, জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন সেনা ব্যারাকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সূত্রটি জানায়, মার্কিন বাহিনী হামলাটি প্রতিহত করেছে।

উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোরও কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জাম থাকা গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

এদিকে কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘শত্রু ড্রোন’ হামলা প্রতিহত করেছে। এ ঘটনাকে তারা ইরানের আগ্রাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানান, যেসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, তা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক ড্রোন ভূপাতিত করার ফলে হয়েছে।

ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা এবং রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানে বেশ কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাই মাসের পর রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পালপালটি হামলার ঘটনা ঘটে।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এ হামলার জবাবে ইরান যদি পাল্টা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন

মির্জা আব্বাস দেশে ফিরছেন
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪১

আজ ঢাকার বাতাস ‘মাঝারি’
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৬

আরো

সম্পর্কিত খবর