ঢাকা: সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে শিগগিরই ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
এর আগে দু-একদিনের মধ্যেই বৈঠকের তারিখ ও সময় চেয়ে সংসদ সচিবালয়ে চিঠি দেবে ইসি সচিবালয়।
রোববার (২৬ জুলাই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে নির্বাচন কমিশন এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে।
নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথা অনুযায়ী সিইসি এখন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং তার সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ও স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণসংক্রান্ত সরকারি গেজেট ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে। সাধারণত জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের হালনাগাদ তালিকা ইসি সচিবালয়ে পাঠানো হবে। তালিকা পাওয়ার পর কমিশন সবকিছু পর্যালোচনা করে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবে।
এদিকে, গাজী নজরুলের বিষয়ে সংসদ থেকে চিঠি পায়নি ইসি। মূলত, এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে জামায়াতের একটি চিঠি পেলেও সংসদ সচিবালয় থেকে এখনও এ সংক্রান্ত কোনো রেফারেন্স বা পত্র পায়নি নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, কেবল দলের চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিতর্কিত। স্পিকার থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য রেফারেন্স এলে কমিশন প্রয়োজনীয় আইন পর্যালোচনা ও শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বর্তমানে স্পিকারের কার্যালয় থেকে চিঠি এলেই বিষয়টি নিষ্পত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে ইসি।