ঢাকা: কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি, কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং গবেষণা-উদ্ভাবনকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, যোগ্যতা ও আগ্রহ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের গবেষক কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা দেবে।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে ‘কৃষিই কৃষ্টি-কৃষিই সমৃদ্ধি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাদ্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ যাত্রায় শেকৃবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ, নগদ সহায়তা এবং সেচ, বীজ, সার ও কৃষিযন্ত্র আরও সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন ও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আম থেকে জুস বা চাটনি এবং টমেটো থেকে সসের মতো প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করলে অপচয় কমবে, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত হবে এবং রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি নয়, বরং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেকৃবির শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন বলেন, আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে আজকের শিক্ষার্থীরাই। তাদের মেধা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।