Thursday 03 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অনুমোদিত বিল আইনসভায় আসতে দেরি, মর্মাহত ডেপুটি স্পিকার

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪৩ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৪৪

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

ঢাকা: জাতীয় সংসদে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদিত বিল উপস্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় মর্মাহত প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদে কোনো প্রস্তাবিত আইন অনুমোদিত হওয়ার পর তা যত দ্রুত সম্ভব আইনসভায় পাঠানো জরুরি, যাতে করে প্রতিটি সংসদ সদস্য বিস্তারিত পর্যালোচনা করার সুযোগ পান। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল উত্থাপনকালে আলোচনার সময় তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সংসদ একটি আইনসভা এবং এখানে নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব যথাসময়ে সকল বিল উপস্থাপন করা, যাতে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের হাতে তা সময়মতো পৌঁছাতে পারে। বিগত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেই বিলটিও অনেক আগে সংসদে আনা যেত। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য তিনি নির্বাহী বিভাগকে আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

একই অধিবেশনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী সংসদীয় কমিটিকে দুই কার্যদিবস সময় বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে সময় বেঁধে দেওয়ার এই পদ্ধতির বিরোধিতা করেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, জটিল এবং স্পর্শকাতর আইনের ক্ষেত্রে সংসদীয় কমিটিকে মাত্র দুই কার্যদিবস সময় দেওয়া অনুচিত, কারণ কমিটির বিভিন্ন অংশীজন ও প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করার অধিকার থাকা প্রয়োজন। সময় বেঁধে দেওয়ার ফলে সংসদীয় কমিটির হাত-পা বেঁধে ফেলা হচ্ছে এবং সঠিক পর্যালোচনার সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

সংসদ সদস্যের এই বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চলতি অধিবেশনের নির্ধারিত সময়সীমার কথা বিবেচনা করেই দ্রুত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। আগামী ৮ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আইনগুলো পাস করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যদি অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হয় তাহলে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, বিলের কপি এরইমধ্যে সব সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবির প্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল পুনরায় হস্তক্ষেপ করে বলেন, বিশেষ ক্ষমতা এবং ৭৭ বিধি বারবার ব্যবহার করতে হচ্ছে যা কাম্য নয়। তিনি বলেন, সব সদস্যের কাছে বিলের কপি পৌঁছায়নি বলে অনেকেই নজরে এনেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সংসদীয় কমিটিতে পাঠালে কেবল ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য তা পান, কিন্তু মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যেন পুরো সংসদ সময় নিয়ে প্রতিটি প্রস্তাবিত আইন ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পায়।

সারাবাংলা/এফএন/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর