ঢাকা: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য পৃথক পৃথক ‘নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত গেজেট এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে স্থানীয় সরকারের ভোটের প্রচারে থাকবে না পোস্টার। পোস্টারের বদলে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারে মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউপি ভোটে প্রতি ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিমাপে একটি করে; উপজেলা ভোটে সর্বোচ্চ ২০টি এবং জেলা পরিষদে প্রতি থানা/উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নিতে পারবেন না। সরকারিগুরুত্বপূর্ণ পদের সংজ্ঞায় অন্যদের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিটি, উপজেলা, পৌর, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে প্রচারে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। প্রার্থী ছাড়া চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক বা স্থানীয় সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এর অপব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় প্রচারের খরচও দেখাতে হবে নির্বাচনি ব্যয়ে।
প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে ভোটারের বা পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) এ লেনদেনের উদ্দেশ্যে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে সবক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে ইসির হাতে।
মাইকে প্রচারের সময় বেলা ১২ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এসময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটের সময় নির্বাচন পরিচালনা কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সার্কিট হাইজ, রেস্ট হাইজ ও ডাক বাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে সব আচরণবিধিতে।
গেল জুনে নতুন আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়, এ নিয়ে মতামতও নেওয়া হয়েছে। সব কিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করে আগস্টে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং-এর জন্য পাঠায় এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন ইসি। এরপর আচরণবিধি জারি করলো নির্বাচন কমিশন।
বছর শেষে ইউপি ভোট দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় নির্বাচন।
প্রচারপত্রসূমহের আকার-আয়তন:
নির্বাচনি প্রচারে বিলবোর্ডের আকার-আয়তন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচার সামগ্রী হবে সাদাকালো রঙের। ব্যানার- আয়তনে সর্বোচ্চ ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট, হ্যান্ডবিল এ ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি বাই ১১.৬৯ ইঞ্চি)। ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ড এর আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের মধ্যে হতে হবে।
প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্ত, উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি নয়। জীবন্ত প্রাণী প্রচারে ব্যবহার করা যাবে না। ফেস্টুন, হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখবিহীন, পলিথিনের আবরণ, পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর নিজের ছবি, প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না প্রচার সামগ্রীতে।
ইউপি আচরণবিধিতে যা কিছু নতুন:
২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে এবার নতুন করে ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হল।
প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না এমন সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ পদের তালিকায় মেয়রের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের (দলীয় প্রশাসক নিয়োগ হল এবার) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভোটের প্রচারে থাকতে পারবে না।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে যুক্ত হবে।
প্রচারণায় মাইকের ব্যবহার বিষয়ে বেলা ২ টার আগে এবং রাত ৮ টার পরে বারণ ছিল। ছয় ঘণ্টা মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার করা যেত। এবারও ছয় ঘণ্টা রেখেছে মাইকের ব্যবহার; সেক্ষেত্রে বেলা ১২ টা থেকে সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে।
আগে বিলবোর্ড ব্যবহারই নিষিদ্ধ ছিল। এবার প্রতি ওয়ার্ডে বিলবোর্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড নয়।
প্রচারে একের বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না। বেলা ১২ টার আগে ও সূযাস্তের পর মাইকে প্রচারণা চালানো যাবে না।
প্রচারে একের বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না। বেলা ১২ টার আগে ও সূযাস্তের পর মাইকে প্রচারণা চালানো যাবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানটি বিধিতে যুক্ত করা হয়েছে এবার।
উপজেলাতে আচরণবিধিতে যা কিছু নতুন:
উপজেলায় ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড এর সাইজের ব্যবহার একই ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট রয়েছে। ইউনিয়ন প্রতি একটি, পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি; পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
এবার নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে সীমিত করা হয়েছে। উপজেলা ভোটে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি এবং পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প হবে না।
আগে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি নির্বাচনি ক্যাম্প করতে পারতেন।
পৌরসভা নির্বাচনের আচরণবিধিতে যা কিছু নতুন:
এখানে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। মাইকে ও ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে বেলা বারো টা থেকে সূযাস্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে।
জেলা পরিষদ আচরণবিধিতে যা কিছু নতুন:
প্রতি থানা/উপজেলা একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থী। জেলা পরিষদের নির্বাচনে মাইকের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন আচরণবিধিতে যা কিছু নতুন:
সিটির প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থী। নির্বাচনি ক্যাম্প আগের মতোই প্রতি থানায় একটি করে থাকতে পারবে মেয়রের।