Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এনসিপির পদযাত্রায় হামলা রাজনৈতিক অধিকারের ওপর নগ্ন আঘাত: এবি পার্টি

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৬ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৯

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

ঢাকা: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলার ঘটনাকে রাজনৈতিক অধিকার ও আইনের শাসনের ওপর নগ্ন আঘাত বলে মন্তব্য করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে এক যৌথ বিবৃতিতে এ কথা বলেন। একইসঙ্গে এনসিপির পদযাত্রায় গাড়িবহরে এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, হবিগঞ্জে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আক্রমণ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধর, গাড়িবহরে ভাঙচুর এবং মোবাইল ফোন ও ক্যামেরাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম লুটের ঘটনা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ নয়। এটি দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর প্রকাশ্য আঘাত। এতে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে সংবাদ মাধ্যম থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এই হামলায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং এমনকি এক স্কুল শিক্ষার্থীর চোখে রড ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো রাষ্ট্রীয় স্থাপনা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের অভ্যন্তরে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার বিষয় নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা হতে হবে যুক্তি, নীতি এবং জনগণের রায়ের মাধ্যমে, লাঠিসোঁটা বা সন্ত্রাসের মাধ্যমে নয়। বিরোধী মতকে সহিংসতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে দমন করার সংস্কৃতি দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য অশনিসংকেত।

তারা বলেন, অবিলম্বে এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনাকারী, উসকানিদাতা এবং প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে তারা আহত সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে সব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বিবৃতির শেষে তারা বলেন, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাজনৈতিক সহিংসতার সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিশ্চয়তাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে রাষ্ট্রকে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

সারাবাংলা/এফএন/ এএ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর