ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য বা অসত্য প্রচারণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো প্রকার কৃত্রিম বট বাহিনী পরিচালনা করে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি জানান, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির বিরুদ্ধে কৃত্রিম বট ব্যবহারের তথ্য তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। একই সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপতথ্য শনাক্ত করার একটি প্রকল্প গ্রহণের কথা জানান তিনি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী এসব কথা সংসদকে অবহিত করেন।
সংবাদপত্রের অপতথ্য এবং বর্তমান প্রেস কাউন্সিলের আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সংসদে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অনলাইন মাধ্যমে ক্ষতিকর অপপ্রচার চালানো হলে প্রেস কাউন্সিলে সরাসরি অভিযোগ দায়েরের সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। এই প্রশাসনিক ও আইনি ফাঁকফোকর দূর করে বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলকে যুগের চাহিদানুযায়ী আধুনিক ও শক্তিশালী করা হবে কি না তা প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।
সংসদ সদস্যের উত্থাপিত এই উদ্বেগের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনের অপপ্রচার কেবল কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা বিরোধী দলের ওপর নয়; বরং এটি সাধারণ নারী ও সরকারি দলের সদস্যদের ওপরও চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলকে পুনর্গঠন করার সার্বিক প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সাইবার মাধ্যমে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তিকর প্রচার প্রতিহত করতে সরকার একটি সুসংহত আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে।
অন্যদিকে সংসদে তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে প্রশ্ন উত্থাপন করে আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন মন্ত্রী ও সরকারের একাধিক সংবাদের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর তা মুছে ফেলা কিংবা সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, সরকারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরিতে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে যে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ‘গলা চিপে ধরছে’ কি না। এ বিষয়ে সরকারের প্রকৃত ব্যাখ্যা তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনায় গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ চালানো হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, সংবাদ পরিবেশন, প্রচার কিংবা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিজস্ব সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত। সরকার এতে কোনো হস্তক্ষেপ করে না এবং সংবাদ মাধ্যম যদি মনে করে কোনো খবর সঠিক নয় বা সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, তবে তারা স্বাধীনভাবেই সেই পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকার সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী বলেও তিনি সংসদে পুনর্ব্যক্ত করেন।