Wednesday 12 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

১৯৭৮-২০২৬ [দ্বিতীয় পর্ব] / দল ছাড়ার পর বিএনপির বড় নেতারা কে কোথায়?

মো. মহসিন হোসেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২০ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ১৯:২১

দল ছেড়েছিলেন বিএনপির এইসব শীর্ষ নেতা। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলায় দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বহু প্রভাবশালী নেতা। তাদের কেউ হয়েছে মন্ত্রী, কেউ সংসদের স্পিকার, কেউ দলের মহাসচিব বা স্থায়ী কমিটির সদস্য। আবার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মতবিরোধ, নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক কৌশল কিংবা দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তাদের কেউ বিএনপি ছেড়েছেন, কেউ বহিষ্কৃত হয়েছেন; কেউ নতুন দল গড়েছেন, কেউ অন্য দলে যোগ দিয়ে আবার বিএনপিতে ফিরেছেন। কারও রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত কয়েকজনকে নিয়ে এরই মধ্যে নানা অনুসন্ধান হয়েছে। তাদের বাইরে গত কয়েক দশকে দলের গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশ কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক পথ বদলের ইতিহাসও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

মওদুদ আহমদ: বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপিতে

বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত দলবদলের একটি নাম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। জিয়াউর রহমানের সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ বিএনপি ছেড়ে তিনি শুধু অন্য দলে যাননি, সেই দলের সরকারেও শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক যাত্রা সেখানেই থেমে থাকেনি। ১৯৯৬ সালে তিনি আবার বিএনপিতে ফিরে আসেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন এবং ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে আইনমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮১ বছর বয়সে মারা যান মওদুদ আহমদ। মৃত্যুর সময় তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। মওদুদের রাজনৈতিক জীবন তাই বিএনপির ইতিহাসে একটি বিশেষ উদাহরণ—দলত্যাগ, ক্ষমতার পালাবদল এবং শেষ পর্যন্ত পুরোনো দলে প্রত্যাবর্তন।

আবদুল মান্নান ভূঁইয়া: মহাসচিব থেকে সংস্কারপন্থী

বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। তিনি ১৯৮০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় দলটির গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতা। ২০০৬-০৭ সালের রাজনৈতিক সংকটের সময় বিএনপির ভেতরে সংস্কারের প্রশ্নে তার অবস্থান দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে যায়। ২০০৭ সালে তাকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

দলীয় রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ার পরও নিজ এলাকায় তার প্রভাব ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে পারেননি। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১০ সালের ২৮ জুলাই মারা যান সাবেক এই মহাসচিব। মান্নান ভূঁইয়ার বিদায় বিএনপির ইতিহাসে শুধু একজন নেতার দলছাড়া হওয়ার ঘটনা নয়; এটি দলের ভেতরের সংস্কার বনাম প্রচলিত নেতৃত্বের দ্বন্দ্বেরও একটি বড় অধ্যায়।

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন: জাতীয় পার্টির শীর্ষ পদ পেরিয়ে বিএনপিতে

শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির আরেক প্রবীণ নেতা, যার রাজনৈতিক পথ একাধিক বড় দলের মধ্য দিয়ে গেছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি আবার বিএনপিতে ফিরে আসেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন।

তার রাজনৈতিক জীবনও দেখিয়েছে, বিএনপির বাইরে চলে যাওয়া মানেই সবসময় বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের স্থায়ী অবসান নয়। মওদুদের মতো তার ক্ষেত্রেও দলত্যাগের পর প্রত্যাবর্তন ঘটেছিল।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী: মুসলিম লীগ থেকে জাতীয় পার্টি, এনডিপি হয়ে বিএনপি

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন ছিল আরও বেশি বাঁকবদলে ভরা। ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। এর পর ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টি থেকে বেরিয়ে নিজের রাজনৈতিক দল ‘ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’(এনডিপি) গঠন করেন। ১৯৯০-এর দশকে এনডিপি থেকে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন এবং ১৯৯৬, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তার প্রতিষ্ঠিত এনডিপি অবশ্য তার মৃত্যুর পরও রাজনৈতিক পরিচয় ধরে রেখেছে। ২০২৫ সালে দলটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছে নিবন্ধনের আবেদন করে।

শেখ রাজ্জাক আলী: স্পিকারের পদ থেকে এলডিপিতে

বিএনপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ দলত্যাগী ছিলেন সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন শেষে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হন এবং ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের রাজনৈতিক সংকটের শেষ দিকে বিএনপির একদল নেতার সঙ্গে তিনিও দল ছাড়েন। অলি আহমদের নেতৃত্বে গঠিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি— এলডিপিতে যোগ দেন। পরে দলটির নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তবে এলডিপিতে তার রাজনৈতিক অধ্যায় দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একপর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নেন। ২০১৫ সালের ৭ জুন মারা যান এই সাবেক স্পিকার।

২০০৬-এর বড় ভাঙন: একসঙ্গে শতাধিক নেতা

বিএনপির ইতিহাসে দলত্যাগের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর। চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বিএনপির প্রায় ১০২ জন নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন তখনকার সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে তাদের একটি বড় অংশকে নিয়ে এলডিপি গঠিত হয়। এই তালিকায় ছিলেন- শেখ রাজ্জাক আলী, রেদোয়ান আহমেদ, আনোয়ারুল কবির তালুকদার, মণি স্বপন দেওয়ান, আলমগীর কবির, জাহানারা বেগম, জিয়াউর রহমান খান, সাইয়েদ মঞ্জুর হোসেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আবু হেনাসহ বিএনপির তৎকালীন বহু নেতা। তবে এই দলত্যাগী নেতাদের রাজনৈতিক পরিণতি এক রকম হয়নি।

জাহানারা বেগম: এলডিপি থেকে বিএনএফ, তারপর রাজনীতি থেকে দূরে

সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহানারা বেগম ২০০৬ সালের দলত্যাগী নেতাদের অন্যতম। এলডিপি গঠনের পর তিনি দলটির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তী সময়ে এলডিপি ছেড়ে নাজমুল হুদার নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ-এ কো-চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। এরপর ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। ২০২১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান জাহানারা বেগম।

আলমগীর কবির: এলডিপি হয়ে আবার বিএনপি

নওগাঁর সাবেক সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরও ২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে তার ক্ষেত্রে দলত্যাগ ছিল দীর্ঘস্থায়ী নয়। ২০০৯ সালের শুরুতে তিনি এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নওগাঁ-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হন। অর্থাৎ ২০০৬ সালের ভাঙনে বিএনপি ছেড়ে যাওয়া নেতাদের মধ্যে আলমগীর কবির ছিলেন তাদের একজন, যিনি পরবর্তী সময়ে আবার বিএনপির রাজনীতিতে ফিরে আসেন।

আনোয়ারুল কবির তালুকদার ও মণি স্বপন দেওয়ান: এলডিপি থেকে সরে গেলেও বিএনপিতে ফেরার পথ

২০০৬ সালে বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দেওয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আনোয়ারুল কবির তালুকদার ও মণি স্বপন দেওয়ান। তারা দুজনই ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে এলডিপি থেকে পদত্যাগ করেন। ওই সময় আলমগীর কবিরও দল ছাড়েন। তবে তাদের পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান আলমগীর কবিরের মতো একইভাবে জাতীয় পর্যায়ে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়নি। আনোয়ারুল কবির তালুকদার এরই মধ্যে পরলোকগমন করেছেন। মণি স্বপন দেওয়ানও সক্রিয় জাতীয় রাজনীতিতে আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি।

রেদোয়ান আহমেদ: ১৯ বছর পর ফের বিএনপিতে

২০০৬ সালের দলত্যাগী নেতাদের মধ্যে রেদোয়ান আহমেদের রাজনৈতিক যাত্রা সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপি ছেড়ে এলডিপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং একপর্যায়ে মহাসচিব হন। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিনি এলডিপির মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করে আবার বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপি কার্যালয়ে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপস্থিতিতে তার আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন হয়। অর্থাৎ প্রায় দুই দশক পর একজন গুরুত্বপূর্ণ দলত্যাগী নেতা আবার সেই পুরোনো দলেই ফিরে এলেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম: এলডিপি গড়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপিতে

শাহাদাত হোসেন সেলিমও বিএনপির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে অলি আহমদের নেতৃত্বে এলডিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে এলডিপি বিভক্ত হলে তিনি আলাদা অংশের নেতৃত্ব দেন। ২০১৯ সালেও তিনি বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি নিজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-বিএলডিপি বিলুপ্ত ঘোষণা করে নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

দলত্যাগীদের রাজনৈতিক পরিণতি কী বলছে?

প্রায় পাঁচ দশকের ইতিহাস ঘেঁটে একটি বিষয় স্পষ্ট— বিএনপি থেকে বেরিয়ে যাওয়া বড় নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এক পথে এগোয়নি। কেউ নতুন দল গড়ে জাতীয় রাজনীতিতে টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন, কেউ অন্য দলের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন, কেউ আবার দীর্ঘ বিরতির পর বিএনপিতেই ফিরে এসেছেন। আবার কেউ দল ছাড়ার পর ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্র থেকে হারিয়ে গেছেন।

মওদুদ আহমদ ও শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের মতো নেতারা বিএনপি ছেড়ে জাতীয় পার্টির শীর্ষ পর্যায়ে গিয়ে আবার বিএনপিতে ফিরেছেন। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জাতীয় পার্টি ও এনডিপি ঘুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছেন। মান্নান ভূঁইয়া বিএনপির মহাসচিবের পদে এক দশকের বেশি সময় থাকার পর সংস্কারপন্থী রাজনীতির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। আর ২০০৬ সালের গণদলত্যাগের বহু নেতা নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে গেলেও অধিকাংশই পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজনীতির মূল স্রোতে নিজেদের আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো, সময়ের ব্যবধানে তাদের কয়েকজন আবার বিএনপির দিকে ফিরেছেন। রেদোয়ান আহমেদ ও শাহাদাত হোসেন সেলিমের ২০২৫ সালের প্রত্যাবর্তন সেই পুরোনো রাজনৈতিক বাস্তবতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। ২০০৬ সালে বিএনপি থেকে বেরিয়ে এলডিপি গঠনের সময় ১০২ নেতার নাম আলোচনায় এসেছিল। কিন্তু দুই দশক পর সেই তালিকার অধিকাংশ নাম আর জাতীয় রাজনীতির প্রথম সারিতে নেই। কেউ প্রয়াত, কেউ রাজনীতি থেকে দূরে, কেউ অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে এবং কেউ আবার ফিরে এসেছেন বিএনপিতে।

রাজনীতির এই দীর্ঘ পথচলায় তাই দলত্যাগের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে প্রত্যাবর্তনের রাজনীতি—যেখানে মতাদর্শ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, নির্বাচনি বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ বারবার পুরোনো নেতাদের নতুন করে পুরোনো ঠিকানায় ফিরিয়ে এনেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) রুহুল কবির রিজভী সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। পাঁচ দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই দলে অনেকে যোগ দিয়েছেন, অনেকে বেরিয়ে গেছেন, আবার ফিরে এসেছেন। তবে দল দলের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। বড় দল থেকে বের হয়ে সফল হওয়া কঠিন। সে হিসেবে যারা বেরিয়ে গেছেন তারা কেউ সফল হয়েছেন এমন নজির দেখা যায়নি। তবে অনেকে দলে ফিরে এসে পুনরায় সফলতা পেয়েছেন।’

সারাবাংলা/এমএমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

মো. মহসিন হোসেন - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর