Tuesday 18 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদানের দাবি ব্যাংকারদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১২ নভেম্বর ২০২৫ ২১:১৮ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪৪

-ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা:  ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ে ইচ্ছাকৃত বড় খেলাপিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং আদালতের মামলা করার সময় এককালীন ডাউন পেমেন্টের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যাংকগুলো।

বেসামাল খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে গৃহীত পদক্ষেপ সংক্রান্ত বিষয়ে বুধবার (১২ ন‌ভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এর প্রেসিডেন্ট এবং সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসরুর আরেফিন।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. কবির আহম্মদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং তফসিলি ব্যাংকের নির্বাহী প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

মাসরুর আরেফিন বলেন, সরকারের পালাবদলের পর খেলাপি ঋণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে খেলাপির হার ২৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এক বছরেই প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা খেলাপি বেড়েছে। এত খেলাপি ঋণ কীভাবে আদায় করা যায়, তা নিয়ে এক্সক্লুসিভ আলোচনা হয়েছে। সেখানে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ আদলেতে রিট করার ক্ষেত্রে নিয়মিত ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বৃদ্ধি করে অর্ধেকের কাছাকাছি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর রিট শুনানিকালে ব্যাংকারদেরও একটি পক্ষ হিসাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর আদালতে যেন খেলাপিদের স্বার্থের মত আমানতকারীদের স্বার্থের দিকে বিবেচনায় রাখে সেই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ঋণ আদায়ে ডিসেম্বরের মধ্যে দৃশ্যমান কিছু করতে চায় ব্যাংকগুলো। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও সেই রকম অগ্রগতি দেখতে চান। কিন্তু কোন কৌশলে যেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দিচ্ছে না। সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাস্তব অনেক নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা। আর নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের আমানত ফেরত দিচ্ছে না। যাতে এনবিএফআইগুলো অর্থ ফেরত দেয় সেই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতি সহায়তা বিষয়ে মাসরুর আরেফিন বলেন, নীতি সহায়তার পদক্ষেপ একেবারে কাজ করছে না। তারা সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকার ডাউন পেমেন্টে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। আবর গ্রাহক ভেদে ১ শতাংশ বা ২ শতাংশ ডাইন পেমেন্ট নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এমন অবস্থায় খেলাপিরা নানা ভঙ্গিমায় নতুন ঋণ চাচ্ছে। যা ঋণ নীতিমালার কার্যক্রমের সঙ্গে যায় না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলমান রাখার গৃহীত উদ্যোগ কিন্তু শুরুতে ভালো ছিল। অনেকে প্রশংসা করেছেন। কিন্তু ঋণ গ্রহীতাদের সাড়া না মেলায় পুরো নীতি সহায়তা যেন হ-য-ব-র-ল দশায় উপনীত হয়েছে।
গত আগস্টে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে আসা থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনতে দেশের বড় করপোরেট ঋণখেলাপিসহ প্রায় ২৫০টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণ ৫ থেকে ১৫ বছরের জন্য পরিশোধের সুযোগ পাবে। এই সুবিধার আওতায় ডাউন পেমেন্ট মাত্র ১ শতাংশ থেকে শুরু হবে এবং কিস্তি পরিশোধ শুরু করার আগে তিন বছর পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে। তবে শর্তগুলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা হবে। বিশেষ সুবিধার আওতাভুক্ত রয়েছে–আবদুল মোনেম গ্রুপ, ড্যান্ডি ডাইং, তানাকা গ্রুপ, অরিয়ন গ্রুপ, দেশবন্ধু গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ, জিপিএইচ ইস্পাত, আনোয়ার গ্রুপ, শাদাব ফ্যাশন, অ্যাপেক্স উইভিং প্রভৃতি। যদিও ১ হাজার ২৫০টি প্রতিষ্ঠান বিশেষ নীতি সহায়তার জন্য আবেদন করেছিল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর