Thursday 20 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গাইবান্ধায় তিস্তা তীরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পদধ্বনি

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ জুন ২০২৬ ১৪:১৭

গাইবান্ধা: উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অভ্যন্তরীণ বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তিস্তাসহ গাইবান্ধার সব কয়টি নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে জেলার তিস্তার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে উজানের নদ-নদীতে পানির চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, নদীর পানির সমতল আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে শনিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধার যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর (ফুলছড়ি স্টেশন) পানি বিপৎসীমার ২৪৪ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘাঘট নদীর (নিউব্রিজ স্টেশন) পানি বিপৎসীমার ২৪৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে করতোয়া নদীর (চকরহিমাপুর স্টেশন) পানি বিপৎসীমার ৩৫৩ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তা নদীর (কাউনিয়া স্টেশন) পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২ সেন্টিমিটার পানি হ্রাস পেয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকক্ষ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলায় ১৯ জুন সকাল ৯টা থেকে ২০ জুন সকাল ৯টা পর্যন্ত কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। ফলে জেলার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি মূলত উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবেই হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন , বর্তমানে জেলার কোনো নদী বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর