ঢাকা: অনুমোদন ছাড়া কোনো নতুন শাখা, উপশাখা বা অন্য কোনো ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র চালু করা হলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন শাখা স্থাপনে বার্ষিক পরিকল্পনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন এবং শহর-গ্রামের নির্ধারিত অনুপাত বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা, সুশাসন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এসব বিধান রেখে নতুন সমন্বিত গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ–সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালের আগের নির্দেশনা বাতিল করে ‘ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর, ভাড়া/ইজারা গ্রহণ ও চুক্তি নবায়ন সংক্রান্ত গাইডলাইন, ২০২৬’ কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র সম্প্রসারণে সুশাসন নিশ্চিত করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, সব ব্যাংকের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন গাইডলাইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় প্রধান কার্যালয়, শাখা, উপশাখা, এসএমই ও কৃষি শাখা, এটিএম, সিডিএম, কালেকশন বুথ, ফরেন এক্সচেঞ্জ বুথ, বিজনেস হাব, সেলস সেন্টার, সার্ভিস সেন্টারসহ সব ধরনের ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্রকে একই কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর, ভাড়া, ইজারা ও চুক্তি নবায়নের জন্য আলাদা নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গাইডলাইন অনুযায়ী, নতুন শাখা চালুর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বার্ষিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা দাখিল করে নীতিগত অনুমোদন নিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হবে। শহরে একটি নতুন শাখা খুলতে হলে গ্রামীণ এলাকাতেও নির্ধারিত অনুপাতে শাখা স্থাপনের শর্ত পূরণ করতে হবে।
উপশাখা স্থাপনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। উপশাখা নিকটবর্তী পূর্ণাঙ্গ শাখার অধীনে পরিচালিত হবে। একই ব্যাংক নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে একাধিক উপশাখা স্থাপন করতে পারবে না। পাশাপাশি উপশাখাকে স্বল্প ব্যয়ের ব্যাংকিং আউটলেট হিসেবে পরিচালনা এবং সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া প্রধান কার্যালয় স্থাপন বা সম্প্রসারণের সময় প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জায়গা বা ব্যয় না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জনবল, কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে জায়গা নির্বাচন করতে হবে। ভবন সাজসজ্জায় দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারেরও পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত)–এর ক্ষমতাবলে জারি করা এ গাইডলাইন অবিলম্বে কার্যকর হবে। এখন থেকে ব্যাংক ব্যবসা কেন্দ্র স্থাপন, স্থানান্তর, ভাড়া-ইজারা ও চুক্তি নবায়ন–সংক্রান্ত সব কার্যক্রম এই নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে।