Thursday 30 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রফতানি আয়ের অর্থ ৪ মাসের মধ্যে দেশে আনতে হবে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৩

ঢাকা: রফতানি আয়ের অর্থ দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চার মাসের সময়সীমা বহাল রেখে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সব নির্দেশনা নতুন করে একত্র করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে রফতানি বাণিজ্যে ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা, ইলেকট্রনিক এক্সপি ফরম, ওপেন অ্যাকাউন্টে রফতানি, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, বিকল্প ট্রেড ফাইন্যান্স ও রফতানি আয় পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে হালনাগাদ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত এক‌টি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, গত এক বছরে রফতানি বাণিজ্য সংক্রান্ত যেসব পৃথক সার্কুলার জারি করা হয়েছিল, সেগুলো হালনাগাদ করে একটি সমন্বিত সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আগের নির্দেশনাগুলো বাতিল হয়ে এই সমন্বিত নির্দেশনাই কার্যকর থাকবে। এটি জারির তারিখ থেকে এক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণভাবে রফতানি করা পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য চার মাসের মধ্যে দেশে আনতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রফতানি আয় দেশে না এলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় নিশ্চিত ঋণপত্র (Irrevocable Confirmed LC) বা ওপেন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থায় রফতানি হলে সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন পর্যন্ত সময় দেওয়া যাবে।

সার্কুলারে রফতানিকারকদের জন্য ইলেকট্রনিক EXP Form ব্যবহারে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রফতানিকারকরা অনলাইনে এক্সপি ফরম পূরণ করবেন, কাস্টমসের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে রফতানি কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন এবং পণ্য পাঠানোর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিপমেন্ট তথ্য হালনাগাদ করবেন। শিপমেন্টের ১৪ দিনের মধ্যে সই করা এক্সপি ফরম, বিল অব এক্সপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় নথি ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

ব্যাংকগুলোকে রফতানি নথি যাচাইয়ে আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিদেশি ক্রেতার গ্রহণযোগ্যতা, অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা এবং রফতানি আয়ের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না করে কোনো লেনদেন সম্পন্ন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রফতানি আয় আদায়ে বিলম্ব বা অনিয়ম হলে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

রফতানি বাণিজ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ব্যাংকগুলোকে পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রফতানি নথি প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল স্বাক্ষর, ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ড (ETR) এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে ব্যাংক-টু-ব্যাংক ভিত্তিতে রফতানি নথি আদান-প্রদান করা যাবে।

এ ছাড়া ওপেন অ্যাকাউন্ট ভিত্তিক রফতানি, আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টরিং, বিকল্প ট্রেড ফাইন্যান্স, ই-কমার্সে পণ্য রফতানি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও ফ্রিল্যান্সিং থেকে আয় দেশে আনা, রপ্তানিকারকদের রিটেনশন কোটা (ERQ) হিসাব পরিচালনা, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা এবং বৈদেশিক মুদ্রা-টাকা সোয়াপ সুবিধাসহ রফতানি বাণিজ্যের প্রায় সব বিষয় নতুন সমন্বিত সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিচ্ছিন্ন সার্কুলারের পরিবর্তে একক সমন্বিত নির্দেশনা থাকায় ব্যাংক ও রফতানিকারকদের জন্য বিধিবিধান অনুসরণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে রফতানি আয় সময়মতো দেশে ফেরানো, ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।