Thursday 30 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চামড়া শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকার প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম চালু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩০ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৯:০৮

ঢাকা: চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পের বিকাশ, আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই তহবিল থেকে ট্যানারি, চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন, কোল্ড স্টোরেজ, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ইটিপি (ETP), এসটিপি (STP), সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে অর্থায়ন করা যাবে। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলা‌দেশ ব্যাং‌ক এক‌টি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত কাঁচা চামড়া উৎপাদন হলেও সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মান ও সনদ অর্জনে পিছিয়ে থাকায় রপ্তানি আয়ও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে চামড়া শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব শিল্পে রূপ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার কোটি টাকার এ তহবিল গঠন করেছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং এটি রিভলভিং ফান্ড হিসেবে পরিচালিত হবে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংক এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে। তবে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক অংশগ্রহণ চুক্তি করতে হবে।

এই তহবিল থেকে নতুন ট্যানারি স্থাপন, বিদ্যমান ট্যানারির আধুনিকায়ন, চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, পরিবেশগত অবকাঠামো, এলডব্লিউজি সনদ অর্জনের ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্পে অর্থায়ন করা যাবে।

তবে যেসব প্রতিষ্ঠান একই খাতে আগে থেকেই এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (EDF), এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড (EFPF), গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (GTF) বা সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো তহবিল থেকে ঋণ সুবিধা নিয়েছে, তারা একই উদ্দেশ্যে এ তহবিলের ঋণ পাবে না। খেলাপি ঋণগ্রহীতারাও এই সুবিধার বাইরে থাকবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন ট্যানারি স্থাপন বা কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন চামড়াজাত পণ্য কারখানায় সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকা এবং আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যাবে। এছাড়া কার্যকরী মূলধনের জন্যও নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন দেবে।

ঋণের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত মেয়াদি ঋণ এবং এক বছরের কার্যকরী মূলধন ঋণ দেওয়া যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত শর্তে তা নবায়নেরও সুযোগ থাকবে।

এছাড়া তহবিল থেকে ঋণ নেওয়া প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের মধ্যে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (LWG) সনদ অর্জনের প্রমাণ জমা দিতে হবে। একই সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও নিতে হবে। এসব বিশেষ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ তহবিল বা অন্য কোনো তহবিল থেকেও ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে না।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর