ঢাকা: দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতা ও তারল্য–সংকট কাটিয়ে ইসলামী ব্যাংক এখন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলছেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই–বাছাই শেষে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ না থাকায় কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সময় লাগছে। তবে এর কোনো প্রভাব ব্যাংকের নিয়মিত কার্যক্রম বা গ্রাহক সেবায় পড়েনি। কারণ, একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ওপরই থাকে।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম কখনোই পুরোপুরি স্থবির হয়ে যায়নি। সাময়িকভাবে গ্রাহকদের অতিরিক্ত আমানত উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটি তারল্য সংকটে পড়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে সেই পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়েছে। ব্যাংকটি আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরেছে এবং যে পরিমাণ আমানত কমে গিয়েছিল, তার একটি অংশ ইতিমধ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে। এটি ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক এখন একটি স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর ব্যাংকটি আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে যাবে এবং দ্রুত আগের অবস্থানে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করতে চায় না। সম্ভাব্য পরিচালকদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা বিতর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালনা পর্ষদের জন্য বিবেচনা করার পর যদি পরে তাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক বা আপত্তি তৈরি হয়, তাহলে আবার পর্ষদ পুনর্গঠনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়বে, তেমনি ব্যাংকের স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণেই প্রতিটি সম্ভাব্য সদস্য সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে।
তবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র। তাঁর ভাষ্য, এটি একটি কারিগরি ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। তাই সব ধরনের যাচাই শেষ হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন পরিচালনা পর্ষদ ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রাহক ও আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াও আরও বেগবান হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।